জাফলংয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি টাকার বালু-পাথর লুটপাট: নেপথ্যে ‘কালা মানিক’ সিন্ডিকেট
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) এবং জাফলং নদীর তীরবর্তী চা বাগান ও নয়া বস্তি এলাকায় চলছে অবাধে অবৈধ বালু ও পাথর লুটপাট। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট, যার মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ‘কালা মানিক’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নিষিদ্ধ যন্ত্রের থাবায় বিপন্ন পরিবেশ
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই চক্রটি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মাটির গভীর থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনের জন্য পরিবেশবিধ্বংসী নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ ও ‘সেইভ মেশিন’ ব্যবহার করছে। এর ফলে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরবর্তী চা বাগান হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলা এই লুটপাটের কারণে পুরো এলাকা এখন পরিবেশগত বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে।
ওসির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটটি স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম ভাঙিয়ে দেদারসে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর পাচার করছে। ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের দাবি
নয়া বস্তি ও চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে তাদের ঘরবাড়ি এবং আবাদী জমি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা অবিলম্বে এই ‘কালা মানিক’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবং জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ষ