সিলেটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের অন্ধকারে জাফলং জিরো পয়েন্টে থেকে বালু-পাথর লুটের মহোৎসব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
গোয়াইনঘাট (সিলেট)প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ‘জাফলং জিরো পয়েন্ট’ থেকে রাতের অন্ধকারে দেদারসে চলছে বালু ও পাথর লুটপাট। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আইনি কড়াকড়িকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতি রাতে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বালু-পাথর লুটপাটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে চিহ্নিত কালোবাজারি দেলোয়ার আহমদ দিলু ও মান্নান সিন্ডিকেট। দিনের বেলায় নীরব থাকলেও অন্ধকার নামতেই এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাফলং জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের নদী ও কোয়ারি অঞ্চল থেকে শত শত শ্রমিক ও নৌকার সাহায্যে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাতের আঁধারে সংগৃহীত এই বালু ও পাথর পাচারের উদ্দেশ্যে উপজেলার ‘কাওছার মিলের নিচে’ এনে জমা করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০০-এরও বেশি ট্রাক বালু ও পাথর অবৈধভাবে স্টক (মজুদ) করে রাখা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চোখের সামনে এমন মহোৎসব চলছে, তা বোধ্যগম্য নয়। জিরো পয়েন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে এভাবে প্রতিনিয়ত পাথর ও বালু চুরির ফলে একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জাফলংয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। প্রশাসনকে দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কাওছার মিলের নিচে অবৈধভাবে মজুত করা পাথর-বালু জব্দ করতে হবে।”
এই বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে দেলোয়ার আহমদ দিলু ও মান্নান সিন্ডিকেটসহ এই চক্রের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।