সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি নীরব দর্শকের ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী!
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া : রাজনৈতিক ছত্রছায়া অথবা বিশেষ কোন ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাস টার্মিনাল, পুরান ফুলের মুখ, বঙ্গবীর রোড, স্টেশন রোড সহ বেশ কয়েকটি এলাকা চাঁদাবাজরা দখল করে নিয়েছে। তাদের ইচ্ছামতো ফুটপাত ও রাস্তা দোকান বন্ধ করে দোকান বসিয়ে নিচে প্রতিদিনের মানতি অর্থাৎ দিনের চাঁদা। এসব এলাকায় কোন কোন সময় সিলেট জেলা জেলা প্রশাসনের কটি পড়া লোকজন, সিটি কর্পোরেশনের পোশাক পড়া লোকজন , সিভিলে পুলিশের ও ডিবির লোকজনের উপস্থিতি দেখা গেলেও কারো চোখেই যেন ভেসে উঠে না এ চিত্র। নেয়া হয়না কোন ব্যবস্থা । এতে করে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জেগেছে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিচ্ছে না কোন গ্রিন সিগন্যালের কারণে নাকি এদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে অন্য কোনভাবে অন্দরমহলে?
ফুটপাত ভাড়া দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে অসাধু একটি চক্র। কোন কোন দিন ফুটপাতের অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দুই টাকা ইনকাম করলে ৩ টাকা কার্য করেও চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে হয় এমন চিত্র পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। তবে চাঁদার হার পরে দোকান অনুপাতে।
ফুটপাতের পাশাপাশি রাস্তা দখল করেও অবৈধ দোকান বসানোর কারণে বেশ কয়েকটি স্থানে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
এদিকে, সুরমা নদীর ‘এপাড়-ওপাড় দু’’পাড়’ মিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) গঠিত হলেও নদীর উত্তরপাড়কে সময়ে সময়ে হকারমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। কিন্তু দক্ষিণ পাড়ে তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়না বলে ও অভিযোগ রয়েছে লোকমুখে। ফলে সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ের ৯টি ওয়ার্ড তথা দক্ষিণ সুরমা এলাকার ব্যস্ততম সড়কগুলো ভাসমান ব্যবসায়ী বা হকারদের দখলে চলে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরির প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত ব্যস্ততম স্টেশন রোড প্রায় আধ কিলোমিটার সড়কটির দু’পাশে সিসিকের উদ্যোগে বক্স-ড্রেন নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। যাতে বর্ষার পানি নিস্কাশনের পাশাপাশি উপর দিয়ে পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। কিন্তু ড্রেনের উপরের ফুটপাত দখল করে বসে রয়েছেন মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা। তারা দোকানের মালামাল ফুটপাতে সাজিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুধু কী তাই? অনেকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি(?) মনে করে মার্কেট বা দোকানের সামনের ফুটপাত বা রাজপথ হকারদের কাছে ভাড়া দিয়ে নিজের পকেট খরচ ও দোকানের বারা দিচ্ছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে।
সিলেট নগরীকে হকারমুক্ত করতে প্রশাসন এর সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আপোষহীন ভূমিকা থাকলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে হকাররা মুহূর্তে মুহূর্তে মাথা নাড়া দিয়ে উঠে। সৃষ্টি করতে চায় দাবি আদায়ের আন্দোলনের তীব্রতা কিন্তু এখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের ভূমিকা।
বিকল্প ব্যবস্থা দিয়ে ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিপ্রায়ে নানামূখী প্রয়াস চালিয়ে ও কার্যকর হচ্ছে না কিছু কিছু চাঁদাবাজদের কারণে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও অন্যরা রয়েছেন পরিচিত হকার নেতা হিসেবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন , রাস্তা বন্ধ করে ব্যবসা করা কোনোভাবেই বরদাসত করা হবে না। সিসিকের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন তার এসব কর্মকাণ্ডে নগরবাসী দুর্ভোগ লাগবে আশাবাদী হলেও কোন কোন স্থানে দেখা যাচ্ছে এখনো তার ভিন্ন চিত্র।
ভাসমান ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে এসে যে কোন স্থানে দোকান বসিয়ে যেমন রাস্তা দখল করে ফেলে তেমনি পরিবহন শ্রমিকের কিছু কিছু লোক কারো কথা কানে না নিয়ে যে কোন স্থানে পার্কিং করে বসে তাদের প্রয়োজনে রাস্তা বন্ধ করে দেয় অথবা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এসব কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
তদারকির ঘাটতি থাকায় সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়ছে না এসব চিত্র চোখে পড়ছে না চাঁদাবাজির ঘটনা নগরবাসী প্রত্যাশা সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে ফুটপাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করে জনগণের জন্য ফুটপাত প্রশস্ত করে রাখা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।
দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আশরাফ ঊজ্জামান জানান,হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি বিষয়টি আমরা অবগত নই। খতিয়ে দেখবো। জনদুর্ভোগ হয় এমন কোন বিষয় পুলিশের নজরে আসলে উৎপাদ দখল মুক্ত করতে আমরা মাঝেমধ্যে অভিযান করে থাকি। তা এখন থেকে নিয়মিত অভিযান করা হবে খেলা চলে মানুষের সাথে কোন দুর্বোগ না হয়।
এছাড়া প্রশাসনের কেউ আদালত পরিচালনা করলে পুলিশ তো এমনিতেই সাথে থাকে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলার মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ সকল ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।