শিরোনাম
ঈদ- উল আজহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত সিলেটের শাহী ঈদগাহ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের ঈদ শুভেচ্ছা সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে সংবর্ধনা সিলেটের গোয়াইনঘাট জুড়ে খায়রুল-কামরুলের রাজত্ব নেপথ্যে প্রভাবশালী ‘দাদা’, জিম্মি সীমান্তের জনপদ পবিত্র ঈদ- উল আজহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মাসুদুল আলম (মাসুদ রানা)l হরিরামপুরে মোল্লা শাহিনের নেতৃত্ব সেচ্ছায় রাস্তা সংস্কার।  পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সৌদি আরব প্রবাসী মুক্তার খান।  দোয়ারাবাজারে নানার বাড়িতে ভাগনার হাতে খালা খুন, আসামীদের গ্রেফতার করলো থানা পুলিশ গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা, দুঃস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

সিলেটের গোয়াইনঘাট জুড়ে খায়রুল-কামরুলের রাজত্ব নেপথ্যে প্রভাবশালী ‘দাদা’, জিম্মি সীমান্তের জনপদ

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৭ Time View
Update : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

122

সিলেটের গোয়াইনঘাট জুড়ে খায়রুল-কামরুলের রাজত্ব নেপথ্যে প্রভাবশালী ‘দাদা’, জিম্মি সীমান্তের জনপদ

 

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবার, অবৈধ চাঁদাবাজি ও আধিপত্ব্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লুনি গ্রামের বাসিন্দা দুই খাইরুল ও কামরুলের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে খোলস বদলে নতুন ‘ছত্রচ্ছায়ায়’ তাদের এই কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, খায়রুল, কামরুল ও মমিনুল এই তিনজনের কাছেই জিম্মি এখন সীমান্তের জনপদসহ থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৭ বছর এরা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, জেলা পরিষদ সদস্য সুবাস, জামাই সুমনের লোক ছিলো। ২০২৪ এর ৫ তারিখে সরকারের পঠ পরিবর্তন হলে রাতারাতি এরা বিএনপি নেতা হয়ে যায়। ফলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে স্থানীয় হাজার হাজার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা। নিজেদের আখের গোছাতে এরা আশ্রয় নেয় বিএনপি নেতা স্টালিন তারিয়াং এর। এরমধ্যেস্থতা করেন আরেক চাঁদাবাজ কামাল মেম্বার। তাদের টার্গেট থেকে ছাড় দেয়না স্থানীয় সাংবাদিকদেরও, যদি কোন সাংবাদিক তাদের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করে তার বাড়িঘরও রেহাই পায়না এই চক্রের কবল থেকে। স্থানীয়রা জানান, খোদ থানার ওসিতো তাদের কথার বাহিরে যাওয়ার ক্ষমতাই রাখেন না। আজকের সংবাদে প্রমান হিসাবে মাত্র দুটি ছবি ব্যবহার করা হলো, তাদের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও, মামলার কপি, অভিযোগের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। একটি ছবিতে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদের সাথে আরেক ছবি বর্তমান বিএনপি নেতা স্টালিন তারিয়াংয়ের সাথে। রয়েছে জামাই সুমনের সাথে একটি ছবিও। আসলে চাঁদাবাজদের কোন দল হয়না, এরা যখন যারা ক্ষমতা যায় তখন তারা সেই দলের হয়ে কাজ করে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা এবং পরবর্তীতে একটি অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় এই চক্রের নেপথ্যের প্রভাবশালী ‘দাদা’র ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খায়রুল ও কামরুলের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, লাঠিয়াল বাহিনী গঠন এবং স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এই খায়রুল ও কামরুলের নেতৃত্বে একটি চক্র গোয়াইনঘাটের প্রতাপপুর ও হাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছেন। সম্প্রতি বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে খায়রুল ও কামরুলের নেতৃত্বে একদল লোক স্থানীয় সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। এই চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এক সময়ের আওয়ামী মন্ত্রীর লোক খায়রুল ও কামরুল এখন নিজেদের যুবদলের নেতা হিসাবে পরিচয় দিচ্ছে। যুবদল পরিচয়দানকারী কামরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম ও ফয়জুল সহ একটি চক্র স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে প্রতি রাতে খেলার মাঠ ও বাগান থেকে শত-শত ট্রাক বালু পাচার করছে। রাজনৈতিক খোলস বদল ও নতুন ‘দাদা’র সন্ধান স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খাইরুল ও কামরুল তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী কারাগারে থাকা ইমরান আহদের লোক পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট বজায় রাখতেন। তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা রাতারাতি নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করেন। বর্তমানে তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং এলাকার এক প্রভাবশালী ‘দাদা’র আশ্রয়ে আগের চেয়েও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, জাফলং লন্ডনি বাজার এলাকার খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতা এবং বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত জেলা বিএনপির ক্রিড়া সম্পাদক স্টালিন তারিয়াং- এর অনুসারী হিসেবে বর্তমানে খাইরুল ও কামরুল নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে স্টালিন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় মহলে স্টালিন তারিয়াং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাবকে পুঁজি করেই খায়রুল, কামরুল ও ঐ বিএনপি নেতার পিএস পরিচয় দান কারি আলীগ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে মুমিনুল ইসলাম জাফলংসহ পুরো গোয়াইনঘাট জুড়ে চোরাচালান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ভাইরাল অডিও ক্লিপ:

সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিক লোকমানের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর খাইরুল ও কামরুলের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। উক্ত অডিওতে কথিত ভাবে শোনা যায়, জনৈক ‘দাদা’ এই দুই ভাইকে সব ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এমনকি ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় মামলা করতে গেলে তা যেন গ্রহণ করা না হয়, সেই ইঙ্গিতও অডিওতে পাওয়া যায়। উল্টো খাইরুল ও কামরুলের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা যেন আগে গ্রহণ করা হয়, সেই বিষয়েও অডিওতে আশ্বস্ত করতে শোনা যায়। এই অডিও ফাঁসের পর স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং এই চক্রের পেছনের শক্তির গভীরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্পর্ক অস্বীকার ও স্থানীয়দের সংশয়: এদিকে স্টালিন তারিয়াংয়ের কিছু অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, খাইরুল ও কামরুল তার লোক নন এবং তাদের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ বিষয়ে স্টালিং তারিয়াং এর বক্তব্য নিতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বার বার কল দিলে মোবাইল বন্ধ দেখানোর করণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের প্রশ্নগত ৫ আগস্টের পর থেকে প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাইরুল ও কামরুলের বিরুদ্ধে অবৈধ চাঁদাবাজি ও সীমান্ত চোরাচালানের বহু অভিযোগ প্রকাশ পেলেও, এতদিন কেন প্রকাশ্যে বা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাথে সম্পর্ক অস্বীকার করা হয়নি? হামলার ঘটনা এবং অডিও ফাঁসের পরেই কেন এই আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, খাইরুল ও কামরুলের পেছনে প্রভাবশালী মহলের শক্ত খুঁটি থাকার কারণেই প্রশাসন অনেক সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সীমান্ত এলাকার অবৈধ বালু-পাথর ও চোরাচালানের স্পটগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা এই চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গোয়াইনঘাট ও জাফলং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সীমান্ত কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নির্মূল করতে প্রশাসনের জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের দাবি, নেপথ্যে থাকা সেই ‘দাদা’ বা প্রভাবশালী মহল যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে গোয়াইনঘাট সীমান্ত জনপদে শান্তি ফিরবে না।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ