সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে পুলিশের অশুভ আঁতাত: হরিপুর থেকে চালিবন্দর পর্যন্ত ফ্রি-স্টাইল বাণিজ্য
স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক যেন এখন ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চোরাকারবারিরা যখন নিত্যনতুন পথ খুঁজছে, তখন খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে মিলল চোরাচালানীদের পথ সুগম করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জৈন্তাপুর ও শাহপরাণ থানা এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টে ডিআই (DI) ট্রাক থামিয়ে পুলিশের সরাসরি লেনদেনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে পুরো সিলেট জুড়ে।
চেকপোস্টে চেকপোস্টে ‘হাত মেলানো’র রহস্য অনুসন্ধান ও সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা অবৈধ মালামাল বোঝাই একটি ডিআই পিকআপ গাড়ি হরিপুর চেকপোস্টে পৌঁছালে দায়িত্বরত জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা গাড়িটি আটকায়। তবে কোনো তল্লাশি বা আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে গাড়িতে থাকা চোরাচালানকারীদের সাথে একপ্রকার হাত মেলানোর ছলে অনৈতিক লেনদেন সেরে নেওয়া হয়। মুহূর্তেই চেকপোস্ট অতিক্রম করে গাড়িটি।
একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে শাহপরাণ থানার অন্তর্গত বটেশ্বর চেকপোস্টে। সেখানেও পুলিশ সদস্যরা থামানো গাড়িটির গতি রোধ না করে সংকেতের আড়ালে তাদের লেনদেন সম্পন্ন করে সবুজ সংকেত দিয়ে দেয়।
দাশপাড়ায় একই দৃশ্য দেখা যায়। নগরীর পাইকারি আড়ত শুধু মহাসড়কই নয়, চেকপোস্ট পার হওয়ার পর গাড়িটি রুট বদলে দাশপাড়া এলাকার ভেতরের অলিগলি দিয়ে নিরাপদে এগোতে থাকে। দাশপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানকার স্থানীয় সিন্ডিকেটের সহায়তায় নির্বিঘ্নে পথ অতিক্রম করে চালিবন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় চোরাচালানের মালামাল।
অবশেষে নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা চালিবন্দরের একটি সবজি ও মালামালের আড়তে গিয়ে খোলাখুলিভাবে আনলোড করা হয় ভারতীয় ওই অবৈধ চালান। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই সুসংগঠিত এবং প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় ঘটেছে যে, সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন প্রকাশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং চোরাচালানকারীদের পথ সুগম করে দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত পার হয়ে আসা অবৈধ পণ্য দেশের সীমান্ত অর্থনীতি ধ্বংসের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ফাঁকফোঁকর উন্মোচন করছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না পাওয়া গেলেও স্থানীয়দের দাবি— এই মহাসড়কে শুধু চেকপোস্টের টহল দলই নয়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানি য়েছেন তারা