শিরোনাম
সিলেটের সীমান্তে অপরাধের নয়া গডফাদার স্টেলিন তারিয়াং: নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব, নেটওয়ার্ক ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ঢাল জাফলংয়ে ইসিএ এলাকায় অবাধে পাথর-বালু লুটপাট: মান্না-দিলু সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে  হাওড়ার পিলখানায় হামিমের কারখানার হদিস, চলতো জামার ট্যাগের কাজ, পাঁচ দিন ধরে বন্ধ সাধারণ মানুষের স্বার্থে,সোনারপুরের উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায়‌ বাজারে বাজারে অভিযান শাহপরাণে র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান: ১২৭৪ প্যাকেট নকল সিগারেট জব্দ, জরিমানা ৫০ হাজার চুনারুঘাটে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণের অভিযোগ: ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় সিলেট বাইপাস সড়ক দিয়ে রাতের আঁধারে ঢুকছে ভারতীয় অবৈধ পণ্য: পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ কানাইঘাটে আজিজুর হত্যা: র‍্যাব-৯-এর অভিযানে গ্রেফতার ১ ভাটির সুরে, বর্ষার ছন্দে: হাওরের বুকে ‘শব্দকথা হাওর বিলাস ২০২৬’ উদযাপন প্রশিক্ষণে দক্ষ যুবশক্তি তৈরি করতে কাজ দেশ যুব সংগঠন – আনিস রহমান
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

জাফলংয়ে ইসিএ এলাকায় অবাধে পাথর-বালু লুটপাট: মান্না-দিলু সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ / ২৫ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

30

জাফলংয়ে ইসিএ এলাকায় অবাধে পাথর-বালু লুটপাট: মান্না-দিলু সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে 

 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটের জাফলং পর্যটন কেন্দ্র পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত সিলেট গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের ‘জিরো পয়েন্ট’ এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে অবাধে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর লুটপাট। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো আইনি বাধানিষেধের তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিনিয়ত রূপসী জাফলংয়ের বুক চিরে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জেনোসাইডের নেপথ্যে মূল কলকাঠি নাড়ছে মান্না, দেলোয়ার হোসেন দিলু, হারুন মেম্বার ও শাহজাহান-এর নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

জিরো পয়েন্ট থেকে বল্লাঘাট: পাচারের রুট

অনুসন্ধানে ও বিশেষ সুত্রে জানা যায়, জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে দিন-রাত সমানে তোলা হচ্ছে বালু ও পাথর। অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব প্রাকৃতিক সম্পদ বল্লাঘাট কাওছার মিলের নিচের সাইটে এনে মজুদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে মান্না, দেলোয়ার হোসেন দিলু, হারুন মেম্বার ও শাহজাহান সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেদারসে পাচার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই জানান, দিনের আলোতেই এসব পাচারকাজ চললেও অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

থানা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে গাড়িপ্রতি ২০০০ টাকা চাঁদা আদায়ের  অভিযোগের মাত্রা এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় থানা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির এক নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই চক্রটি। পাথর ও বালুবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০০০ (দুই হাজার) টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই তোলা আদায় ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত রয়েছে মান্না, দেলোয়ার হোসেন দিলু, হারুন মেম্বার এবং শাহজাহান-এর সন্ত্রাসী গ্যাং। পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে পরিবহনচালক ও স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পরিবেশ ধ্বংসকারী ও চাঁদাবাজ এই চক্রটির কারণে একদিকে যেমন পিয়াইন নদীর অস্তিত্ব ও জাফলংয়ের সৌন্দর্য বিলীন হতে বসেছে, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—বিগত দিনে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও অধরাই থেকে গেছে মান্না, দেলোয়ার হোসেন দিলু, হারুন মেম্বার ও শাহজাহান চক্রটি।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এমন বেপরোয়া লুটপাট ও চাঁদা আদায়ের রাজত্ব চলায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই চিহ্নিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসিএ এলাকা রক্ষায় যৌথ অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন জনগণ।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ