সিলেটের সীমান্তের ‘গডফাদার’ রশিদ
সিলেট বুলেটিন ডেস্কঃ রাজনীতির পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালানের চাবিকাঠি। গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় যে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ এতদিন ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে, শেখ হাসিনার পতনের পর তা একচ্ছত্রভাবে চলে গেছে বিএনপি নেতাদের পকেটে। আর এই পুরো সীমান্ত সাম্রাজ্যের ‘গডফাদার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ।
স্থানীয়দের মতে, বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদেই দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন রশিদ। দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র ও পণ্য চোরাচালান, মানব পাচার এবং জাফলং নদীর কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর অবৈধভাবে উত্তোলনের এক ভয়াবহ চিত্র।
জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ফতেপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের বাড়ির ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে এক বিশাল গোপন আস্তানা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রতি রাতে চোরাই চিনি, জিরা ও কসমেটিকস ভর্তি একের পর এক ট্রাক সেখানে ঢোকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই শত শত সশস্ত্র কর্মী সেখানে চড়াও হয়। উল্লেখ্য, গত বছর ভারতীয় গরু আটক করাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তারও প্রধান আসামি ছিলেন এই রশিদ।
এই সিন্ডিকেটে রশিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন জৈন্তাপুরের তারিকুল, ফারহান, কালা ওরফে কালু এবং মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত মনসুর মেম্বার। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে মনসুর মেম্বার দাবি করেন, “এগুলো সবই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ বলেন, “চোরাচালান বন্ধে আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করছি।”
সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী জাবের সাদেক স্বীকার করেন, “চোরাচালান যে চলছে, তাতে সন্দেহ নেই। শতভাগ বন্ধ করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
সম্প্রতি সিলেটের এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চোরাচালানচক্রকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের মধ্যে যারা নিজেদের শোধরাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সীমান্তের কৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যে বিশাল অরাজকতা ও অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, তা দ্রুত ভেঙে দিতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখতে চান স্থানীয় সচেতন মহল।