গোয়াইনঘাটে আতিক সিন্ডিকেটের তাণ্ডব: ইউপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও মানবপাচারের মারাত্মক অভিযোগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া লাঠিয়াল বাহিনী; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ‘আতিক’ নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন অপরাধী চক্র। আতিক ও তার কথিত লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দাঙ্গাবাজি এবং সীমান্তপথে মানবপাচারের মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীরা।
চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপির নাম ভাঙিয়ে আতিক তার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধ চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা অপকর্মের প্রতিবাদ করলে মিলছে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই সিন্ডিকেটটি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সীমান্তে মানবপাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য চাঁদাবাজির পাশাপাশি আতিক চক্রের বিরুদ্ধে উঠেছে সীমান্তপথে অবৈধ মানবপাচারের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে লোক পাঠানোর লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শত শত মানুষকে পাচার করেছে এই চক্রটি।
সশস্ত্র লাঠিয়াল বাহিনী ও প্রশাসনের নীরবতা এলাকায় আতিকের সরাসরি নির্দেশে একটি সশস্ত্র লাঠিয়াল বাহিনী মহড়া দিয়ে থাকে। পারিবারিক কিংবা তুচ্ছ ঘটনায়ও এই লাঠিয়াল বাহিনীর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিয়ন পরিষদের নাম ব্যবহার করে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা সাধারণ মানুষ।
আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি গোয়াইনঘাটের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা আতিক এবং তার লাঠিয়াল বাহিনীর চাঁদাবাজি ও মানবপাচারসহ সব অপকর্মের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তারা।