জগন্নাথপুরে জমি নিয়ে বিরোধে সশস্ত্র হামলা: ৩ ভাইসহ মাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
সিলেট প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৩নং মীরপুর ইউনিয়নের লহরী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের মা ও তাঁর তিন ছেলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বীনা রানী নাথ বাদী হয়ে একই গ্রামের কালী রঞ্জন নাথসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে বিবাদী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, লহরী গ্রামের বাসিন্দা বীনা রানী নাথের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের কালী রঞ্জন নাথদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বিবাদী পক্ষ নানা সময়ে বীনা রানী নাথ ও তাঁর সন্তানদের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বীনা রানী নাথের ছোট ছেলে প্রান্ত দেবনাথ বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় ছফিল মিয়ার দোকানে যাচ্ছিলেন। তিনি লহরী গ্রামস্থ শিবনাথের বসতবাড়ির সামনের ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছামাত্র পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা কালী রঞ্জন নাথ, রাখাল দেবনাথ ও সিজন দেবনাথসহ সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা তাঁর গতিপথ রোধ করে। বিবাদীরা রামদা, ধারালো চাকু, লোহার রড, রুইল, সুলফি ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় তৈরি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
হামলার একপর্যায়ে ১নং বিবাদী কালী রঞ্জন নাথের নির্দেশে ২নং বিবাদী রাখাল দেবনাথ হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে প্রান্ত দেবনাথকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে চাকুর ঘায়ে তাঁর ডান কানের পাশে মারাত্মক কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পাশাপাশি অন্য বিবাদীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। ছেলে প্রান্ত দেবনাথের শোর-চিৎকার শুনে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তাঁর মা বীনা রানী নাথ এবং দুই ভাই পুলক দেবনাথ ও পংকজ দেবনাথ। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র বিবাদীরা তাঁদের ওপরও হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এ সময় ১নং বিবাদী কালী রঞ্জন নাথ হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে পুলক দেবনাথের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে তা তাঁর বাম গালে লেগে গুরুতর জখম করে। এরপর কালী রঞ্জন নাথ আবারও রামদা দিয়ে পংকজ দেবনাথের মাথায় কোপ মারলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন, ফলে রামদার কোপটি তাঁর বাম হাতের কবজির ওপর পড়ে গভীর কাটার সৃষ্টি করে। একই সময়ে ২নং বিবাদী রাখাল দেবনাথ চাকু দিয়ে পংকজ দেবনাথের বাম হাতের বাহুতে আঘাত করে এবং ৩নং বিবাদী সিজন দেবনাথ লোহার রড দিয়ে পংকজের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তাঁর মাথায় মারাত্মক রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন মা বীনা রানী নাথও। ১নং বিবাদী কালী রঞ্জন নাথ তাঁর চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে শোলীনতাহানি ঘটায় এবং ৩নং বিবাদী সিজন দেবনাথ তাঁকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের কান্নাকাটি ও আকুল চিৎকারে স্থানীয় ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলে বিবাদীরা পরবর্তীতে সুযোগমতো খুন-জখমের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলেও পংকজ দেবনাথের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মাতব্বরদের জানানোর পর ভুক্তভোগী বীনা রানী নাথ থানায় হাজির হয়ে এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জগন্নাথপুর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।