নগরীর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক
সম্পাদকীয় :: সিলেট নগরীর কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণ কার্যক্রম সরজমিন পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার পরপরই তিনি নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে সিসিকের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি মাঠে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উৎসাহিত করে বলেন, “জনসেবাও ইবাদতের একটি বড় অংশ। আজ আপনাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার কথা ছিল। কিন্তু আপনারা জনগণের কল্যাণে, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ঈদের দিনও অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আপনারা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে সিলেট নগরবাসী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
বর্জ্য অপসারণ কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, “আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম কোরবানির পর ৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরী পরিষ্কার করা হবে। কর্মীরা যে গতি ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন, তাতে আশা করি আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিলেটবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে পারব।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ময়লা-আবর্জনা ও পশুর উচ্ছিষ্ট সরিয়ে নিতে হবে। আমি চাই ঈদের পর নগরীর কোথাও যেন কোনো আবর্জনা জমে না থাকে এবং কোনো ধরনের দুর্গন্ধ যেন না ছড়ায়।”
এ সময় নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “কেবল সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে এত দ্রুত বিশাল পরিমাণের বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব নয়। কোরবানির পর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ যাতে যত্রতত্র ছড়িয়ে না থাকে, সেদিকে নগরবাসীকেও খেয়াল রাখতে হবে। সবাই নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য কাজটা আরও সহজ হবে।”
সবশেষে সিসিক প্রশাসক নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদ আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সম্প্রীতি। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক।”
পরিদর্শনকালে প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, মো. মাহবুবুর রহমানসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।