প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিদ্যালয় পরিদর্শন: বিতর্কিত মন্নান মেম্বারের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজের সঙ্গে স্থানীয় বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব আব্দুল মান্নান ওরফে মন্নান মেম্বারকে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি একটি সংবেদনশীল কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ও বিতর্কিত এক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মন্নান মেম্বারের বিরুদ্ধে অতীতে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তাঁর নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এমন এক বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে প্রতিমন্ত্রীর অতি সন্নিকটে অবস্থান পেলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও চিত্রে প্রতিমন্ত্রীর বহরে মন্নান মেম্বারের উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা যায়। এ ঘটনায় সরকারি সফরের নিরাপত্তা প্রটোকল, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সফরসঙ্গী বা অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়রা গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা কোনো মন্ত্রীর সফর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রতীক। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিতর্কিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং সরকারের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে সরকারি সফরের প্রটোকল ও অংশগ্রহণকারীদের তথ্য যাচাইয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলেও এবং সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করলেও এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল মান্নান ওরফে মন্নান মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।