গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দি সীমান্তে দেলোয়ার-নজরুল-নুরু সিন্ডিকেটে চোরাচালান বাণিজ্য!
বিশেষ প্রতিনিধি::সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা চোরাচালানের একটি সক্রিয় রুটে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এই সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের পণ্য দেশে প্রবেশ করাচ্ছে।
সূত্র জানায়, চোরাচালানের মাধ্যমে কসমেটিকস, জিরা, বিভিন্ন ধরনের কিটসহ মাদকজাতীয় দ্রব্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিছনাকান্দি এলাকার দেলোয়ার মোল্লা, নজরুল মোল্লা এবং হাদারপার গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটটি স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে মাদকসহ অবৈধ পণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দ্রুত কঠোর নজরদারি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ২০২৪ সালে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় আলোচিত ১৪ ট্রাক চিনি চোরাচালান মামলায় দেলোয়ার মোল্লাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দেলোয়ার মোল্লার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
দেলোয়ার মোল্লা সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার হাদারপার নতুন ভাঙা হাওর এলাকার বাসিন্দা। পরে রবিবার (২৮ জুলাই) ভোরে হাদারপার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
বর্তমান অভিযোগগুলোও সেই পূর্ববর্তী মামলার প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত এলাকায় চলমান চোরাচালান পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।