৪৯ বছর আগে ১৯৭৮ সালে প্রথমবার রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা বাসিয়া খাল( বাসিয়া নদী) পুন: খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে শনিবার দুপুর ১টায় বাসিয়া খাল খননের সময় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের খননের সময় ১৯৭৮ সালে জিয়ার সাথে খাল খনন করেছেন এমন তিনজন প্রবীন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তারা তারেক রহমানের কাছে তাদের ৪৯ বছর আগে জিয়াউর রহমানের সাথে খাল খননের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক। বাসিয়া খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,সংসদ সদস্য আ্যডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবদুল মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ নেতৃবৃন্দ।
সিলেটের চার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বাসিয়া নদী। সুরমা থেকে উৎপত্তি হয়ে এটি মিশছে কুশিয়ারা নদীতে। উৎসমুখ সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাশুকগঞ্জ বাজারে।১৯৭৭ সালে এখানে প্রথম খননকাজ শুরু হয়, যার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই খননের পর কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। সেচ সুবিধার কারণে বাসিয়া পারে চাষবাস ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হয়। নদীতীরের অনাবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়ে।
সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বরাক, চাউলধনী, ছালীয়া, মউডুবী ও দয়ালং হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমির সেচসংকট প্রাকৃতিকভাবেই দূর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলে খননের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। ফলে চাষাবাদে সংকট দেখা দেয়। নদীটিও দখল-দূষণে মৃত খালে রূপ নেয়।
প্রায় ৪৯ বছর পর এবার সরকারপ্রধানের হাতে নদী খননের পরিকল্পনার সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাসিয়াপার এলাকাবাসী মেতে উঠেন ৪৯ বছর আগের আনন্দে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর প্রায় ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প-বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ।তিনি জানান, মাশুকগঞ্জ বাজার থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খননকাজ চলবে।