ম্যানচেস্টারে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো মনসা পূজা প্রবাসের মাটিতে ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও ভক্তির অপূর্ব মেলবন্ধন
ম্যানচেস্টার প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার সিটিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী দেবী মনসা মায়ের পূজা। বাংলা হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ম্যানচেস্টার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে।
গত ১৭ আগস্ট ম্যানচেস্টারের একটি পূজামণ্ডপে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মনসা মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। পূজা-অর্চনা, মন্ত্রপাঠ, প্রদীপ প্রজ্বালন, প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নেন ভক্তরা।
পূজামণ্ডপে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের শিকড়, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী মনসা সর্পদেবী হিসেবে পূজিত। তাঁকে শিবের কন্যা হিসেবেও মান্য করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী মনসার আশীর্বাদে পরিবারে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বিশ্বাস, ভক্তি ও ধর্মীয় আবেগকে ধারণ করেই প্রবাসের মাটিতে এ পূজার আয়োজন করা হয়।
দিনভর পূজামণ্ডপে ছিল উৎসবের আমেজ। ভক্তরা দেবীর চরণে ফুল, ফল ও বিভিন্ন উপকরণ নিবেদন করে পরিবারের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজেদের ধর্মীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিকড়কে ভুলে গেলে চলবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁদের উৎসাহ আরও বাড়িয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মনসা পূজার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসের মাটিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।
প্রবাসে এমন ধর্মীয় আয়োজন শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয়বারের এ মনসা পূজাও যেন সেই বার্তাই বহন করল—দেশ থেকে দূরে থাকলেও ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় শিকড় হৃদয়ে বেঁচে থাকে।