ছাতকে লাফার্জের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, কৃষিজমির মাটি কাটা ও অবৈধ পাথর বিক্রির অভিযোগ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণায় কম শুল্কে কাঁচামাল এনে খোলা বাজারে বিক্রি, শুল্ক ফাঁকি এবং আবাদী জমির মাটি কেটে পরিবেশ বিনষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় সাধারণ পাথর ও চুনাপাথর আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, লাফার্জহোলসিম কারখানাটি ভারত থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে কাঁচামাল হিসেবে কেবল সিমেন্ট ও ক্লিংকার উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি’ (IRC)-এর আওতায় রেয়াতি শুল্কে (HS Code 2521) চুনাপাথর আমদানি করে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করে সেই চুনাপাথর প্রসেস ও ক্রাশ করে উচ্চ শুল্কযুক্ত বাণিজ্যিক কনস্ট্রাকশন এগ্রিগেটস/রকস্টোন হিসেবে খোলা বাজারে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। শুল্ক আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রেয়াতি সুবিধায় আনা কাঁচামাল বাজারে বিক্রি করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
এছাড়া কারখানার বিভিন্ন কাজের অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় এলাকার কৃষি ও আবাদী জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (Topsoil) কেটে কেটে বিনষ্ট করছে। ফলে একসময়ের উর্বর কৃষি জমি স্থায়ীভাবে চাষাবাদের যোগ্যতা হারাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। “পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫” ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আবাদী জমির টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কোম্পানিটি কোনো তোয়াক্কা করছে না।
ভুক্তভোগী আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বহুজাতিক এই কোম্পানির এমন অসম ও অবৈধ বাণিজ্যের কারণে ছাতকের ঐতিহ্যবাহী পাথর ব্যবসা ধসে পড়ছে। লাইসেন্সধারী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক বাণিজ্য করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং সাধারণ শ্রমিকরা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন।
ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), কাস্টমস কমিশনারেট, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়ে লাফার্জের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও শুল্ক ফাঁকি বন্ধে জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাতকের ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অবিলম্বে লাফার্জহোলসিমের ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসির অপব্যবহার, খোলা বাজারে পাথর বিক্রি এবং আবাদী জমির মাটি কাটা বন্ধ করা না হলে আমরা ছাতকের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”