গোয়াইনঘাটে বিচার চাইতে গিয়ে প্রাণ দিলেন বাবা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় যাওয়াই হলো কাল
বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটের গোয়াইনঘাটে ন্যায্য বিচারের আশায় থানায় গিয়েছিলেন এক অসহায় বাবা। কিন্তু সেই ‘অপরাধেই’ পেতে হলো নির্মম পরিণতি। নিজ আপন বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে প্রাণ হারালেন কলিম উল্লাহ (৫৩) নামের এক ব্যক্তি। মেয়েকে ধর্ষণের বিচার চাইতে যাওয়া এবং পুলিশে অভিযোগ জানানোই কাল হলো তার জন্য।
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট দিঘিরপাড় গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ও বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। নিহত কলিম উল্লাহ ওই গ্রামের প্রয়াত তুতি মিয়ার ছেলে।
ঘটনার নেপথ্যে যা ঘটেছে
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার আপন চাচাতো ভাই জুবেল আহমদের (২১) বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে এ বিষয়ে সুবিচারের আশায় ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা গোয়াইনঘাট থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সদস্যেরা দিঘিরপাড় গ্রাম ও সংলগ্ন হাওর এলাকায় অভিযানে যান।
প্রতিশোধের আগুনে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
থানায় অভিযোগ ও গ্রামে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আসামি জুবেলের বাবা ছয়ফুল্লাহ। নিজের আপন ছোট ভাই এবং ভুক্তভোগীর বাবা কলিম উল্লাহর ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছয়ফুল্লাহ সরাসরি কলিম উল্লাহর গলায় দা দিয়ে কোপ দেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক কলিম উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
“ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। এই খবর পেয়েই ক্ষোভের বশে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে আসামির বাবা ছয়ফুল্লাহ। অভিযুক্ত ঘাতককে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।”
— ওমর ফারুক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গোয়াইনঘাট থানা।বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মূল অভিযুক্ত জুবেল ও তার বাবা ঘাতক ছয়ফুল্লাহকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।