জৈন্তাপুরে নিলামের ১৪৮ বস্তা জিরাসহ কাভার্ডভ্যান ডাকাতি, চালক হাসপাতালে ও হেলপার নিখোঁজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল রোড এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্রের মুখে নিলামকৃত ১৪৮ বস্তা ভারতীয় জিরাসহ একটি কাভার্ডভ্যান ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চিকনাগুল খাঁন টি বাগান সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কাভার্ডভ্যান চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গাড়ির হেলপার ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ তরিকুল ইসলাম জৈন্তাপুর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— জৈন্তাপুর উপজেলার ঠাকুরের মাটি গ্রামের জুবের আহমেদ শিকদার, উতলারপার গ্রামের আব্দুস শুকুর ওরফে কবীর, কহাইঘর গ্রামের আলাল উদ্দিন এবং উমনপুর গ্রামের কাউসার আহম্মদ ও মোহাম্মদ আলী।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ঘাটেরচটিস্থ গোডাউন থেকে ১৪৮ বস্তায় থাকা ৪,৪৩৯ কেজি নিলামকৃত ভারতীয় জিরা নিয়ে একটি নীল ও হলুদ রঙের কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো অ-১১-৪৫২০) ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গোডাউন থেকে ১০০ গজ দূরে পৌঁছামাত্র অভিযুক্তদের নেতৃত্বে ৭-১০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাড়িটির গতিপথ রোধ করে।
তারা গাড়ির ড্রাইভার মনির হোসেন, হেলপার সুভাষ রঞ্জন দাস এবং ম্যানেজার শামীম মিয়াকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়িটি চিকনাগুল বাজারের দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খাঁন টি চা বাগান এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দল চালক ও ম্যানেজারকে বেধড়ক মারধর করে মালামালসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এছাড়া ম্যানেজারের নিকট থাকা যাতায়াত খরচের ৫৩ হাজার টাকাও তারা ছিনিয়ে নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি আহত কাভার্ডভ্যান চালক মনির হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হেলপার সুভাষ রঞ্জন দাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম। অন্যদিকে ম্যানেজার শামীম মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, “সংগঠিতভাবে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে আমার আমদানিকৃত ও নিলামে কেনা কোটি টাকার মালসহ গাড়িটি ডাকাতি করা হয়েছে। আমার কর্মচারীদের মারধর করে ড্রাইভারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং হেলপার এখনো নিখোঁজ। আমি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও মালামাল উদ্ধারসহ আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় জৈন্তাপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও নিখোঁজ হেলপারকে উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।