শিরোনাম
র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেট থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, প্রধান আসামি ইফাদ গ্রেপ্তার জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট: ওসি ও দারোগাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের দায়িত্ব গ্রহণ: সিলেটের সীমান্তে অপরাধের নয়া গডফাদার স্টেলিন তারিয়াং: নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব, নেটওয়ার্ক ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ঢাল জাফলংয়ে ইসিএ এলাকায় অবাধে পাথর-বালু লুটপাট: মান্না-দিলু সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে  হাওড়ার পিলখানায় হামিমের কারখানার হদিস, চলতো জামার ট্যাগের কাজ, পাঁচ দিন ধরে বন্ধ সাধারণ মানুষের স্বার্থে,সোনারপুরের উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায়‌ বাজারে বাজারে অভিযান শাহপরাণে র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান: ১২৭৪ প্যাকেট নকল সিগারেট জব্দ, জরিমানা ৫০ হাজার চুনারুঘাটে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণের অভিযোগ: ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড় সিলেট বাইপাস সড়ক দিয়ে রাতের আঁধারে ঢুকছে ভারতীয় অবৈধ পণ্য: পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

আহমদ আলী (লেখক ও গবেষক) সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

স্টাফ রিপোর্টার / ১১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

176

আহমদ আলী (লেখক ও গবেষক) সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

 

সিলেট বুলেটিন ডেস্ক:: মোঃ আহমদ আলীর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ভোরবেলায়, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ কদর আলী বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কর্মজীবনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। পিতার আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিবেশেই মোঃ আহমদ আলীর বেড়ে ওঠা।

বিএসএস ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি বন অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দায়িত্ববোধকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন। কখনো প্রতারণা, অসততা কিংবা অন্যের ক্ষতি করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেননি। বরং সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পথেই তিনি অবিচল থেকেছেন।

পারিবারিক পরিচিতি-

তাঁর সহধর্মিণী মোছাঃ নাজমা বেগম একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে নাজমুল হাসান নয়ন বর্তমানে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী ছামিয়া বর্তমানে স্নাতক (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

পরিবারের সকল সদস্য শিক্ষা, সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

“সম্মাননা ও অর্জন”-

সাহিত্যচর্চা, গবেষণা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মোঃ আহমদ আলী ২০১৭ সালে বিশ্ব সাহিত্য সংসদ কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ “মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল” লাভ করেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়ার হাত থেকে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কর্মপ্রয়াস, সমাজসেবামূলক কার্যক্রম এবং জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হয়।

এই অর্জন তাঁর কর্মময় জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

“জীবনদর্শন ও মূল্যবোধ”

বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যায়ের আশ্রয় নিতে দ্বিধা করেন না, তখন মোঃ আহমদ আলী সরলতা, আন্তরিকতা ও নৈতিকতার প্রতি অটল আস্থা রেখেছেন। জীবনের পথে বহুবার তিনি প্রতারণা, অবহেলা ও বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়েছেন; তবুও প্রতিশোধপরায়ণতা বা কারও ক্ষতি করার মানসিকতা কখনো তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি।

তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং তার চরিত্র, আচরণ এবং অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধে নিহিত। সাময়িক সাফল্যের চেয়ে মানবিক সম্পর্কের পবিত্রতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ তাঁর কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

দিন শেষে তাঁর অর্জনের তালিকা হয়তো খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু তাঁর অন্তর প্রশান্ত। কারণ তিনি কখনো কারও অধিকার হরণ করেননি, কাউকে প্রতারণা করেননি এবং অন্যায়ের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেননি। এই আত্মতৃপ্তি ও মানসিক শান্তিই তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

“গুণীজনের কদর স্বদেশে হয় না”— বহুল প্রচলিত এই প্রবাদটির মধ্যে গভীর বাস্তবতা নিহিত রয়েছে। অনেক সময় একজন প্রতিভাবান, সৎ ও জ্ঞানী মানুষ নিজের সমাজে যথাযথ মূল্যায়ন পান না। অথচ সময়ের পরিক্রমায় তাঁর যোগ্যতা ও অবদান যথার্থ স্বীকৃতি লাভ করে।

যে সমাজ জ্ঞানী, সৎ ও যোগ্য মানুষদের সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়, সে সমাজ ধীরে ধীরে মেধা, নৈতিকতা ও আদর্শিক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। তাই একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য গুণীজনদের যথাযথ সম্মান, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান অত্যন্ত জরুরি।

কারণ গুণী মানুষের সম্মানই নতুন গুণী মানুষের জন্ম, বিকাশ এবং সমাজকে আলোকিত করার প্রেরণা জোগায়। “সততা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, মানবিকতা তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আর নির্মল বিবেক তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ