শিরোনাম
বিদ্যুতের দাবিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ফুলবাড়ি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র যানজট প্রশাসনিক অনিয়মে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার অভিযোগ দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে  একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ কুমিল্লা লাকসামে সিনথিয়া আক্তার নামে স্কুলছাএী আত্মহত্যা করেছেন।  দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ককে জরিমানা গোয়াইনঘাটে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ৪৩ শিক্ষার্থী টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে ৩ যুবকের মরদেহ উদ্ধার ইয়াবাসহ মাদক সম্রাজ্ঞী সাহেদা ও সহযোগী আটক সিলেটে পুলিশের নতুন গণবিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে সিলেট নগরীর সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে টাইগার জামাল কে আটক করে (র‍্যাব-৯)
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

প্রশাসনিক অনিয়মে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার অভিযোগ দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে 

স্টাফ রিপোর্টার / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

49

#অভিযোগের তীর সিলেট জেলা প্রশাসনের দিকে #

 

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া,সিলেট ব্যুরো: :৭ বিষয় চিহ্নিত করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ উঠেছে সিলেট নগরীর দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী বৃন্দ । 

 

তারা অবিলম্বে ৭ সমস্যা চিহ্নিত করে উল্লেখিত সমস্যা বলির সমাধানের দাবী করে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসনের দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের দিকে।  সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো, প্রিন্সিপাল ইনচার্জ পদ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার, দুইজন অভিভাবক প্রতিনিধিসহ পূর্ণাঙ্গ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগকারী শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ বাতিল, শূন্য পদে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের অবহিতকরণ এবং স্কুল পরিচালনায় পৃথক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) নিয়োগ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

 

২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা বলি উল্লেখ করে ও সমাধানের দাবি জানিয়ে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কাজী সেবা।

 

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. ফয়জুল্লাহসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের একমাত্র ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত কয়েক বছর ধরে ট্রাস্টি বোর্ডের অপূর্ণতা, একাধিক সদস্যের মৃত্যুজনিত শূন্যতা, দায়িত্ব পালনে অক্ষম বয়স্ক সদস্য, প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি এবং কিছু শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে ।

 

সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিকুর রহমান, কবি-সাহিত্যিক ড. এম এ মোশতাক, হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ, অ্যাডভোকেট ইরশাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ, ব্যাংকার এম এ ওয়াদুদ, শিক্ষাবিদ মোস্তফা নূরুল হাসান চৌধুরী, অভিভাবক ফয়সাল আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. ওয়াহিদুর রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নির্মল রঞ্জন, অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অভিভাবক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, তারেক আল মঈন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন ও ভাইস-প্রিন্সিপাল তাহিয়া সিদ্দিকা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজকুমার সিংহকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং মুজিবুর রহমানকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়াদ পূর্তির আগেই কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়া ফোনে নির্দেশ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডিসি (শিক্ষা) নুরের জামান চৌধুরী রাজকুমার সিংহকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এতে তিনি পদত্যাগ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মুজিবুর রহমানকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং আবেদা হক ও রুকনুদ্দিনকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে কিছুদিন প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু পরে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম হঠাৎ করে মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করে প্রথমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টিপু সুলতান এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হক-কে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাভাবিক জায়গায় নিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এখন সচেতন মহলের প্রাণের দাবি সিলেট জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ