শিরোনাম
সিলেট সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সাগরের মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সিলেটের চেঙ্গেরখালে ইউপি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি, ধরাছোঁয়ার বাহিরে কবির তাহিরপুরে ইয়াবা ডিলার সোহাগ সহযোগী সহ পুলিশের খাঁচায়  দোয়ারাবাজারে ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার সিলেটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের অন্ধকারে জাফলং জিরো পয়েন্টে থেকে বালু-পাথর লুটের মহোৎসব ও  চাঁদাবাজির অভিযোগ  উমেদুর রহমান উমেদের নেতৃত্বে নাজিম উদ্দিন লস্করকে সংবর্ধনা জাউয়া বাজার ইউনিয়ন নিবার্চনে চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে সুহেদ আহমদ গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম কাজল খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আসামি মোঃ হাফিজ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ আগামীর সময়কে পাঠক না হলে আস্তাশীল করেছে – সিসিক প্রশাসক  হকার উচ্ছেদের ও বুলডোজার রাজ বন্ধ হোক এর প্রতিবাদে সমাবেশ ও ডেপুটেশন।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটের চেঙ্গেরখালে ইউপি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি, ধরাছোঁয়ার বাহিরে কবির

স্টাফ রিপোর্টার / ৪০ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

54

সিলেটের চেঙ্গেরখালে ইউপি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি, ধরাছোঁয়ার বাহিরে কবির

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ সারি-গোয়াইন নদীর সিলেট সদরের চেঙ্গেরখাল, বর্ষা মৌসুম সহ সারা বছর সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ, জাফলং ও অন্যান্য স্থান থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথর পরিবহনের প্রধান নৌপথ। বছরের পর বছর নদীর এই পথ ধরেই চলছে হাজার হাজার কোটি টাকার বানিজ্য। অর্থনীতিতে রাখছে গুত্বপূর্ন ভূমিকা। বানিজ্যিক এই নৌপথের নিরাপত্তা বাঁধা কোন অংশে কম নয়। নানান অজুহাতে নদীর বিভিন্ন অংশে নৌ-যান শ্রমীকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। অন্য যেকোন সময়ের চাইতে বর্ষায় তা যেন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। জাল কাগজপত্র এবং ভুয়া লীজ, ইউনিয়ন ও মার্কম্যান ট্যাক্সের নামে নদীতে তান্ডব চললেও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা দেখা দেখা যায়না। ফলে নিরাপদ নৌ-রুটের পরিবর্তে চেঙ্গেরখাল নদী চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেঙ্গেরখাল নদীর সালুটিকর-বাদাঘাট নৌপথে নৌযান থেকে ইউনিয়ন ও মার্কম্যান ট্যাক্সের নামে দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র। স্থানীয়দের দাবী এয়ারপোর্ট থানাধীন নোয়াটিলা গ্রামের মৃত সুনু মিয়ার ছেলে কবির এই চক্রের মূল হুতা। কবির নিজেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মার্কম্যান দাবী করে চেঙ্গেরখাল নদীতে চাঁদাবাজির এই চক্রটি গড়ে তুলেন। এবং প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীতে চাঁদা আদায়ে নেমে পড়েন। যদিও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম, চেঙ্গেরখাল এলাকায় কবির নামে কোনো মার্কম্যান দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তিনি নিশ্চিত নন।

গেল বছরগুলোর ন্যায় চলতি বছর সালুটিকর ব্রীজ সংলগ্ন নদীতে চাঁদা আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রটি, বিষয়টি ছাতক নৌপুলিশকে জানান বালু পাথর ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বিলাল, গত মাসের ১৯ তারিখ সালুটিকর ব্রীজ সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালায় ছাতক নৌপুলিশ। অভিযানে নৌপথে চাঁদাবাজির সময় হাতে নাতে মামুন মিয়া নামের একব্যাক্তিকে আটক করা হয়। এসময় চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত একটি কাটের নৌকা, আসফিয়া এন্টারপ্রাইজ খাদিমনগর ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নামে দুটি ট্যাক্স আদায়ের রশিদ বই, উত্তোলিত চাঁদা নগদ ২,২২০/= দুই হাজার দুইশত বিশ টাকা, এবং তিনটি বাশের লাটি জব্দ করে নৌপুলিশ। পরে নৌপথে চাঁদাবাজির দায়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ সহ আরও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন আজিজুর রহমান বিলাল। যার গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং-২১, তারিখ-১৯/০৬/২০২৬ইং ।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আটক মামুন মিয়া নদী পথের মার্কম্যান দাবী করা কবির এর ভাই। এবং মামলায় কবির মামুন সহ তাদের আরেক ভাই রুবেল কে আসামী করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে মামুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তারা পরস্পর যোগসাজশে নদী পথে চলাচলকারী নৌযান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও মার্কম্যান এর নামে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিলেন। পরে আটক মামুন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। 

এদিকে, চাঁদাবাজির মূল হুতা কবির এর বিরোদ্ধে মামলা হলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, বরং মামলার পর সপ্তাহ খানেক চাঁদা উত্তোলন বন্ধ রাখেন করিব, পরে সুযোগ বুজে তা আবার পুনরায় চালু করেন। নদী পথে চাঁদাবাজি, নৌপুলিশের অভিযান এবং কবির ও তার ভাইদের বিরোদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হলেও চাঁদাবাজ কবির গ্রেফতার না হওয়ায় তার ক্ষমতা ও দৌরাত্ম্য নিয়ে নৌযান শ্রমিক ও স্থানীদের মধ্য দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন উদ্বেগ।

মামলা ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে কবির আহমদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে কল কেটে দেন।

এর আগে ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দিলোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, নদী পথে ইউনিয়ন পরিষদের নামে ট্যাক্স আদায়ের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হয়নি। ভুয়া রশিদ ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী ছাতক নৌপুলিশের কর্মকর্তা এস,আই(নিঃ) জয়ন্ত চন্দ্র দে বলেন, নৌপথে চাঁদাবাজির মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। 

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক এর মোঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলার তদন্তে নৌপুলিশ কাজ করছে। চাঁদাবাজির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং জড়িতদের বিরোদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান পুর্বে জানান, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিলেট সদর, সরকার মামুনুর রশীদ জানান, চেঙ্গেরখাল নদীতে চাঁদাবাজির দায়ে মামলা যেহেতু হয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রমের দিকে উপজেলা প্রশাসনের নজর থাকবে এবং জড়িতদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ