শিরোনাম
লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার —ছাতকে সড়ক ডাকাতির রহস্য উদঘাটন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ডাকাত গ্রেফতার জাতিসংঘ ফোরামে নিরাপদ অভিবাসনে জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ শাহজালাল( রহ:) মাজারে গিলাফ দিলেন মাহফুজ আদনান  নরসিংদীর শিলমান্দী ইউনিয়নের সাবেক মহিলা সদস্য সেলিনা বেগমকে ঘিরে নানা আলোচন জাতিসংঘ ফোরামে অভিবাসী অধিকার ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান আরিফুল হক চৌধুরীর সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারা প্রদানে উচ্চপর্যায়ের কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  শিশু ধর্ষক মাদরাসা শিক্ষকের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিলেটে সমাবেশ সিলেটে বিজ্ঞান মেলার প্রস্তুতি  শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক সিলেটে উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ হাম রোগের টিকা কার্যক্রম ,হামেরউপসর্গে আরো তিন শিশুসহ ১৯ শিশুর মৃত্যু 
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার —ছাতকে সড়ক ডাকাতির রহস্য উদঘাটন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ডাকাত গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

31

লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার —ছাতকে সড়ক ডাকাতির রহস্য উদঘাটন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ডাকাত গ্রেফতার

 

সুনামগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি:: সুনামগঞ্জের ছাতক–শান্তিগঞ্জ–জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সংযোগ সড়কে সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক ডাকাতির ঘটনাটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে। উদ্ধার হয়েছে লুণ্ঠিত অর্থের একটি অংশ, ডাকাতির সময় ব্যবহৃত ভয়ঙ্কর রামদা–তলোয়ার ও একটি মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট।

ঘটনার পর শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামিদের ছাতক থানা থেকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার বিবরণ গত ৬ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে সিলেট মেট্রো–ন–১১–১১৬০ নম্বরের একটি পিকআপকে (যা জগন্নাথপুরমুখী ছিল) আটকে ফেলে ৮–১০ জনের একটি সংগঠিত ডাকাতদল।

ডাকাতরা পিকআপের কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও যাত্রী প্রান্ত দাসকে ব্যাপক মারধর করে। এরপর স্বপন দাসের গলায় ঝোলানো ব্যাগ থেকে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গভীর রাতের নির্জন সড়কে মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পরদিন ৭ মে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর মালিক, জগন্নাথপুর উপজেলার ইকড়ছই গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে মোঃ মতিউর রহমান ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ছাতক থানায় মামলা নং–১৩, তারিখ ০৮/০৫/২০২৬, দণ্ডবিধি ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় একটি নিয়মিত ডাকাতির মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার পান এসআই শেখ মিরাজ আহম্মেদ।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত শনাক্ত

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিরাজ আহম্মেদ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ডাকাত দলের অবস্থান ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করেন। এরপর ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কবির, এসআই মিরাজ, এএসআই রৌশন, এএসআই সাইফুল ও তাদের সঙ্গীয় ফোর্সের নেতৃত্বে রাতভর পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়।

একই রাতের গভীরে, পুলিশের দক্ষতায় দু’জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোঃ আজির উদ্দিন (৩৩) — নিজাম উদ্দিনের ছেলে, মজিদপুর, জগন্নাথপুর

মোঃ হোসাইন আহম্মদ (২২) — হাবির মিয়ার ছেলে, ইশাকপুর, শান্তিগঞ্জ গ্রেফতার অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সাধারণ মানুষ।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইশাকপুর এলাকায় হোসাইন আহম্মদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি ধারালো রামদা এবং লুণ্ঠিত অর্থের মধ্যে ২৯,৫০০ টাকা উদ্ধার করে।

অন্যদিকে, মামলার আরেক পলাতক আসামি লায়েক মিয়া (২৫)–এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ভয়ঙ্কর ২৩.৬ ইঞ্চি লম্বা একটি তলোয়ার ও একটি কালো–লাল রঙের মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট। পুলিশ জানায়, এই মুখোশওয়ালা হুডি ও অস্ত্রগুলো ডাকাতির সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ—

মুখোশওয়ালা হুডি জ্যাকেট,কাঠের হাতলযুক্ত ২৩.৬ ইঞ্চি তলোয়ার,কাঠের বাটসহ ২৪ ইঞ্চি রামদা,উদ্ধারকৃত ২৯,৫০০ টাকা,এসব আলামতসহ আটক আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 স্থানীয়রা জানান, ৮–১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দীর্ঘদিন ধরেই রাত্রিকালীন সড়কে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। এবার পুলিশের তৎপরতায় আশা করা যাচ্ছে ডাকাতচক্র পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

পিকআপের কর্মচারী স্বপন দাস বলেন,

“সেদিনকার সেই ভয়াবহ মুহূর্ত এখনো চোখের সামনে ভাসে। মারধর করে ব্যাগ থেকে সব টাকা কেড়ে নেয়। আমরা ভেবেছিলাম বাঁচবো না। পুলিশ এত দ্রুত ডাকাত ধরেছে—এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি।”

ডাকাতদমন অভিযানে কঠোর অবস্থান ছাতক থানা সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের তথ্য সংগ্রহে একাধিক দলে ভাগ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা, সম্ভাব্য পালানোর পথ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান—“এই ডাকাতদল শুধু এক জায়গায় সক্রিয় নয়। তারা সড়ক দখল করে বেশ কয়েকটি স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা অপারেশনকে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে।”

 

ছাতক–শান্তিগঞ্জ–জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত এই সড়ক ডাকাতির দ্রুত উদঘাটন পুলিশের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ডাকাত শনাক্ত, গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার ও তদন্তে অগ্রগতি—এসবই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে শিগগিরই পুরো ডাকাতচক্র ধরা পড়বে এবং আবারও নিরাপদ হবে রাতের সড়ক।

 

২৪ ঘণ্টায় ডাকাতি উদঘাটনের সাফল্য

ছাতক–দোয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মুরছালিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন— “ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

এএসপি মুরছালিন আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাই–ডাকাতির প্রবণতা দমন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অপরাধীচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়কে ফিরছে স্বস্তি সাম্প্রতিক সড়ক ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ পথচারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, পুলিশের দ্রুত অ্যাকশনে তা অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ