গোয়াইনঘাটের ১১নং মধ্য জাফলংয়ে”আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেটের চোরাচালান ম্যানেজ’- খেলা-দৌরাত্ম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলংয়ের রাধানগর সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া চোরাচালানের ও অবৈধ বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী আব্দুল্লাহ ও রিয়াজের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখের সামনেই অবাধে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটটি স্থানীয় বিট অফিসারকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে সীমান্তজুড়ে বেড়েছে চোরাচালান, অব্যাহত রয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন—যা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সিএনজি চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করা রিয়াজ হঠাৎ করেই ‘লাইনম্যান’ বনে গিয়ে গড়ে তোলে নিজস্ব নেটওয়ার্ক।
বর্তমানে সে কোটি টাকার লেনদেনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করা, অর্থ আদায় এবং মাসিক চাঁদা বণ্টনের মাধ্যমে সে তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ—যিনি আওয়ামী দোসর একসময় বোমা মেশিন লাইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—বর্তমানে সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, মোটরসাইকেল, এমনকি মাদকদ্রব্য যেমন ইয়াবা ও ফেন্সিডিল পাচারের সঙ্গেও জড়িত এই চক্র। সীমান্তের প্রায় প্রতিটি রুট তাদের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক বছরে রিয়াজের আর্থিক উত্থান ‘অস্বাভাবিক’—যা এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রমেরই প্রমাণ বহন করে।
পাশাপাশি, লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ ও রিয়াজ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, “আমরা এখন এসবের সঙ্গে জড়িত নই।”এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সীমান্তবর্তী মধ্য জাফলং যেন আর চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য না থাকে—এটাই এখন স্থানী য়দের প্রত্যাশা।