শিরোনাম
স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগ সিসিকের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রশংসা# দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট হবে সিলেটে -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জের দিরাই বাসস্ট্রেশনে পুলিশের অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক গোয়াইনঘাটে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে কামরুল হত্যা: দক্ষিণ সুরমা থেকে র‍্যাব-৯ এর হাতে ৪ আসামি গ্রেপ্তার মাধবপুরে কিশোরী অপহরণের প্রধান আসামি শাহপরাণে গ্রেপ্তার, ভিকটিম উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ সিলেটের বাবনা মোড় রেলগেইট এলাকা বিদ্যুৎহীন: গ্রাহকরা বিপাকে  এলাকার জনমনে ক্ষোভ মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  দোকান উচ্ছেদের চেষ্টায় যুলীগ নেত দোহারে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তরুণদের সামাজিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বানবাণিজ্য মন্ত্রীর সিলেটে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এ দেশে কখনোই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না — আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগ

রংপুর প্রতিনিধিঃ / ১১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

15

স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগ

 

রংপুর প্রতিনিধিঃপঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অন্যকে দেওয়ার জন্য ব্যাগে রাখা দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়েরও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান। এদিকে নির্যাতনের ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা প্রধানপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার মাহামুদ আলম প্রধান পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

থানায় দেওয়া এজাহারে শিক্ষক মাহামুদ আলম উল্লেখ করেন, সফিজুল, নুর ইসলাম ও বাবুসহ তাঁদের বংশীয় লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাঁর বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন তিনি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে ব্যাংকের কাজে বের হন। পথিমধ্যে দুপুরের খাবার খেতে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর পথরোধ করে। এরপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হামলায় তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। একপর্যায়ে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলা থেকে পা পর্যন্ত বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় জমি বন্ধকমুক্ত করার জন্য ব্যাগে রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হামলাকারীরা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।

পরে শিক্ষক মাহামুদ আলমের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে শুরু করলে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, “ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।

মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, “মোবাইলে জানতে পারি উনি বিপদে আছেন। এরপর গ্রাম পুলিশকে উদ্ধারের জন্য পাঠাই। তবে তার আগেই ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ