সিলেটে বিদেশে পাঠানোর নামে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: র্যাব-৯ এর অভিযানে প্রতারক চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিনিধি: ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের মূলহোতা আই এ মারুফ আহমদকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টা ০৫ মিনিটে সিলেট নগরের কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মারুফ আহমদ সিলেট জেলার জালালাবাদ থানার পাইকরাজ গ্রামের মৃত হাবীব আহমদের ছেলে।
র্যাব জানায়, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার মোস্তফানগর এলাকার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিনের (৩৪) সঙ্গে আম্বরখানাস্থ ‘গোল্ডেন টাওয়ারে’ অবস্থিত একটি ট্রাভেলস এজেন্সির কর্ণধাররা সার্বিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক পাঠানোর নামে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন। ভুক্তভোগী তার ছেলে ও শ্যালকের ছেলেকে পাঠানোর জন্য তাদের কথামতো পুরো টাকা পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে গত বছরের ২০ নভেম্বর আসামিরা তাদের হাতে দুটি ভিসা তুলে দেয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে ফ্লাইট পেছানোর অজুহাতে তাদের সিলেটে ফেরত পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে অনলাইনে যাচাই করে ভুক্তভোগী জানতে পারেন যে প্রদত্ত ভিসাগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে (মামলা নং-৩, তারিখ: ০৪/০৭/২০২৬) র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মারুফ আহমদকে গ্রেফতার করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ জানায়, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে