কানাইঘাটে সুরমা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন: জনমনে আতঙ্ক
বিশেষ প্রতিবেদন:: সিলেটের কানাইঘাট এলাকার সুরমা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে আলোচিত বালুখেকো ডিপজল চক্র। ফলে নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কায় হুমকির মুখে এলাকার নদী তীরবর্তী হাটবাজার,বাড়িঘর মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল স্কুল ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ। সামান্য বন্যা হলে তলিয়ে যেতে পারে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে করে এলাকার জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এরা ইজারা বর্হিভুত এলাকায় চালাচ্ছ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। নদীটির দুটি পাশ দুটি উপজেলায় হওয়ায় সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বালু খেকোরা।
স্থানীয় সংবাদ সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলার ছোটদেশ,বড়দেশ দক্ষিণ ও বড়দেশ বাজার এলাকায় একাধিক হাইড্রলিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলেএলাকার বাজারসহ বিস্তর অনেক অসহায় মানুষের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদ করলেও তা আমলে না নিয়ে উল্টো হামলা মামলার হুমকি দিচ্ছে বালুখেকো ডিপজল চক্র।
সুরমা নদীর উত্তরের অংশ সিলেট জেলার কানাইঘাট ও দক্ষিনের অংশ জকিগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় জকিগন্জ উপজেলাধীন ২.৪৫ একর আয়তনের একটি ছোট বালুমহাল ইজারা নেয় বালুখেকো ডিপজল চক্র। নদীর দুই তীর দুই উপজেলায় হওয়ার সুযোগে কানাইঘাট উপজেলাধীন সুরমা নদীর প্রয় দুইশ’ একর এলাকাজুড়ে বালু উত্তোলনের তান্ডব চালাচ্ছে ওই চক্র। এ নিয়ে কিছুদিন আগে হামলা মামলার ঘটনাও ঘটে।
জেলা প্রশাসক অফিস সূত্র জানিয়েছে, বালু উত্তোলনকৃত এলাকায় মাত্র ২.৪৫ (আড়াই) একর বালুমহাল লিজ নিয়েছেন মিজানুর রহমান ডিপজল চক্রের চন্দ নামের একজন। নির্ধারিত কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাদেরকে ঐ লিজটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি লিজ গ্রহণের কোন শর্তই মানছেন না বালু খেকোরা।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ইজারার জায়গা ছেড়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক ডজন হাইড্রলিক ড্রেজার লাগিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন ডিপজন ও তার সশস্ত্র সহযোগিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান ডিপজল জানান, জকিগন্জ উপজেলার নওয়াগাঁও মৌজাধীন বালু মহালটি তারা ইজারা নিয়ে বালু-মাটি উত্তোলন ও বিক্র করছেন। ইজারা বহির্ভুত কানাইঘাট এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কথা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলে, তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন- কানাইঘাট উপজেলার অন্তর্গত এলাকায় কোনো বালুমহাল নেই। আমি খোজ নিচ্ছ,অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদকে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।