জৈন্তাপুরে ‘পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন।
মুক্তাদির আল সেলিমজৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নকে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত করে ‘পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টায় জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে পূর্ব দরবস্ত উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. নূরুল ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ারুল আম্বিয়া, সদস্য সচিব ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমদ, সদস্য আব্দুল হেকিম বাবুল এবং মিনহাজুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলায় মাত্র দুটি ইউনিয়ন ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সুবিধা ও জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পুনর্গঠন ও নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
বর্তমানে উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে।বক্তারা দাবি করেন, ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নের আয়তন ও জনসংখ্যা অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় অনেক বেশি। ইউনিয়নটিতে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষের বসবাস, যার অধিকাংশই কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা থেকে এলাকার মানুষ তুলনামূলকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দরবস্ত ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার এবং এসব এলাকায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস।
বর্তমানে এই তিনটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। জনসেবার সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এই তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে পৃথক ‘পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ’ গঠন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।তারা জানান, ২০২১ সাল থেকে নতুন ইউনিয়ন গঠনের দাবিতে আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০২২ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়নের দাবিতে পুনরায় আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠিত হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা সহজে লাভ করতে পারবেন।