#ফাহিমা ধর্ষণ চেষ্টায় অজ্ঞান হলে হত্যার পর লাশ গুম করতে ফেলে দেয়া হয় ডুবায়, পানিতে ভেসে ঊঠায় রাখে জঙ্গলে গাছের নীচে#
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: সিলেটে ফাহিমা নামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রতিবেশী যুবক জাকির আজ আদালতে দায় স্বীকার করে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে সিলেট মেট্রোপাল্টা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের কাছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। জাকির জালালাবাদ থানা এলাকার সোনাতলা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার পুত্র ও নিহত ফাহিমার প্রতিবেশী।
সোমবার রাতে সিলেট সদর উপজেলার কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সুকৌশলে তার বড় ভাই ও এলাকার অন্য একজনের সহযোগিতায় জালালাবাদ থানা পুলিশ জাকির কে গ্রেফতারে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ মে সকাল ১১টার দিকে জাকির তার বসতঘরে একা ছিল। এসময় ফাহিমার হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ির সামনের দোকান থেকে ২টি সিগারেট আনতে পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পর সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে সে গলাটিপে তাকে হত্যা করে।
পরে জাকির ফাহিমার মরদেহ লাগেজের ভেতর ঢুকিয়ে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।ক্যাবিনেটে রাখে। পরে লাশটি লাগেজ থেকে বের করে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে বালির ঊপর। পুলিশ সে বালি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
৮ মে ফজরের নামাজের পরপর জাকির লাশটি প্রতিবেশি নূরুল হকের মালিকানাধীন একটি ডোবার পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশটি ভেসে ওঠায় সেটা পানি থেকে তুলে ডোবার পার্শ্ববর্তী বাঁশ ও নারিকেল গাছের নীচে ঝোঁপে রাখে।
পরে স্থানীয় লোকজন থানা দূরে থাকায় ও তেমন কারো নাম্বার উপস্থিত সময় না থাকায় ৯৯৯ এ ফোন করে স্থানীয় এক যুবক। সাথে সাথেই পুলিশের এসআই কামাল উপস্থিত হন করেন লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল। সে সময় ঘাতক ও সাথে ছিল উপস্থিত ।
স্থানীয়রা জানান, লাশ উদ্ধারের সময় মিডিয়া এলাকার সকলে এই কথা বলেছেন হত্যাকারী শনাক্ত ও আসামি গ্রেফতার এ বিষয়ে। ফাহিমার পরিবার অসহায় বলে বিচারে বা মামলায় যেন আইনি সহায়তার ব্যক্ত না ঘটে। কিন্তু সে সময় আসামি জাকিরের চলাফেরা বাচনভঙ্গি ছিল ভিন্ন রকম । আগে থেকে অভিযোগ ছিল অসামাজিক কার্যকলাপের।জাকিরের ইয়াবা সেবন এবং বিক্রি সবার জানা। সে কারণেই সন্দেহের তীর শুরু থেকেই ছিল তার দিকে।
উপকমিশনার ( ডিসি উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর জাকিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলার আলামত হিসেবে টেকেরবাড়ি এলাকার একটি খাল হতে ফাহিমার লাশ গুমের চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি শাল (চাদর/ ওড়না ) এবং বাড়ি থেকে একটি কালো সুটকেস ও খাটের নিচ থেকে রক্তমাখা বালি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন (৩০) সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কঠোর শাস্তি দাবি করে গতকাল রাতে বিক্ষোভ করেছেন জনতা।
তাঁরা থানা ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে থাকেন। পরে মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এর আগে ৬ মে ওই শিশু নিখোঁজ হয়েছিল নিজ বাড়ির সামন থেকে। এরপর ৮ মে বাড়িসংলগ্ন একটি ডোবার পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল হাবিব জানান, ফাহিমা নিখোঁজের ঘটনায় শিশুটির মা জালালাবাদ থানা এলাকার সোনাতলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ওয়াসির আলীর কন্যা ও রাইসুল মিয়ার স্ত্রী রুবিনা বেগম (৩৬) ৬মে ফাহিমা নিখোঁজের বিষয়ে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। যার বং ৩৪৯।লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামা হত্যাও লাশ গুমের চেষ্টা মামলা রেকর্ড করা হয় হয় ৮ মে। পুলিশি তদন্তে প্রতিীয়মান হওয়ায় ওই মামলায় জাকির হোসেন গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয় বলে
সিলেট মেট্রোপলটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মানজুরুল হক জানান।তিনি জানান, আটক জাকির হোসেন প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, সেটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে।
মায়ের আফসোস :প্রতিবন্ধী বাবার অসহায় মেয়ে ফাহিমা ঘটনার দিন আমার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে চানাচুর কিনে আনে বাড়ির সমন্বয়ের দোকান থেকে ৫ টাকা ফেরত দিলে খেলতে যায় আর( আইলো)আসলো না। পরে পাইলাম (পেলাম)লাশ।হায়রে আমার সোনার জান কত পোস্টে গেছে………..
ভাই বোনের মধ্যে ফাহিমা ছিল চার নম্বর ।
ফাহিমার বড় বোন ফাইজা স্থানীয় মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। আরেক বোন ফারজানা স্থানীয় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী । ছোট ভাই রিহাদ দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে।
ফাহিমার বিকৃত দেহ, লাশ, দুর্গন্ধ আর কিছুটা ঘটনা উপলব্ধি করতে পেরে তাদের কান্না , আতঙ্ক আর হতাশায় যেন এখন বাতাস বাড়ি হয়ে উঠছে জাললাবাদ এলাকার সোনাতলা গ্রামের।
তবে স্থানীয়রা প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ। পুরো সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন ইতিপূর্বে ফাহিমা হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ আবার কেউ কেউ প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছেন।
অসহায় পরিবারের পাশে তাড়াতাড়ি দিয়ে আসছেন সমাজপতিরা। পুলিশ প্রশাসন ও রয়েছে বেশ আন্তরিক শিশু কন্যা ফাহিমা হত্যার লোমর্ষক এ মামলার তদন্ত কাজে বলে জানিয়েছেন বাদী পরিবার। তারা জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব, তদন্ত ওসি মুজাহিদ ও এস আই কামালের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ।