শিরোনাম
সিলেটে উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ হাম রোগের টিকা কার্যক্রম ,হামেরউপসর্গে আরো তিন শিশুসহ ১৯ শিশুর মৃত্যু  বিছনাকান্দি সীমান্তে অপ্রতিরোধ্য চোরাচালান সিন্ডিকেট: নেপথ্যে দেলোয়ার-নজরুল-নুরু চক্র গোয়াইনঘাটের ১১নং মধ্য জাফলংয়ে”আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেটের চোরাচালান ম্যানেজ’- খেলা-দৌরাত্ম কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিনে থামছে না পাথর লুট, রাতের আঁধারে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্র শাহজালাল ( রহ:) মাজারের ওরসে প্রধানমন্ত্রী উপহার  বিজেপি কর্মীরা জয় শ্রী রাম বলায়, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ– ঘটনাস্থলে কেন্দ্র বাহিনী। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজির চালকসহ দুই জন নিহত ও তিন জন আহত হয়েছেন আগুনে পুড়ে যাওয়া মামলাটি ধামাচাপা দিতে তদন্দকারী তদন্তকারী কর্মকর্তা মরিয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে  দোয়ারাবাজারে শ্বশুরবাড়িতে জামাতার রহস্যজনক মৃত্যু : স্ত্রী- শাশুড়ি আটক    সিলেট অলটাইম নিউজ ডটকমর উপদেষ্টা সানোয়ার আলী দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়  ফুলেল শুভেচ্ছা 
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

বিছনাকান্দি সীমান্তে অপ্রতিরোধ্য চোরাচালান সিন্ডিকেট: নেপথ্যে দেলোয়ার-নজরুল-নুরু চক্র

স্টাফ রিপোর্টার / ৫১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

71

বিছনাকান্দি সীমান্তে অপ্রতিরোধ্য চোরাচালান সিন্ডিকেট: নেপথ্যে দেলোয়ার-নজরুল-নুরু চক্র

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কসমেটিকস ও জিরার আড়ালে আসছে মাদক ও চিনি • ১৪ ট্রাক চিনি মামলার আসামি দেলোয়ারই মূল হোতা • প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সিলেট সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকন্যাখ্যাত বিছনাকান্দি সীমান্ত এখন চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে—কখনো বা ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায়—দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভারত থেকে অবৈধ পণ্যের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন বিতর্কিত দেলোয়ার মোল্লা, নজরুল মোল্লা এবং নুরুল ইসলাম নুরু। গত বছর সিলেটে তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘১৪ ট্রাক চিনি চোরাচালান’ মামলার অন্যতম হোতা এই দেলোয়ারই বর্তমান সিন্ডিকেটের নেপথ্য কারিগর বলে জানা গেছে।

ভয়ংকর সেই ‘মোল্লা-নুরু’ সিন্ডিকেট অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাটের হাদারপার ও বিছনাকান্দি সীমান্তকে ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে এক দুর্ভেদ্য চোরাচালান নেটওয়ার্ক। এই চক্রের প্রধান দেলোয়ার মোল্লা সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার হাদারপার নতুন ভাঙা হাওর এলাকার বাসিন্দা। তার সাথে যোগ দিয়েছেন নজরুল মোল্লা এবং হাদারপার গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু। স্থানীয়দের দাবি, এই তিনজন সীমান্তের ‘লাইন’ নিয়ন্ত্রণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তের একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বিছনাকান্দি ও পিয়াইন নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। সীমান্ত পার হয়ে বস্তা বস্তা জিরা, নামী-দামী ব্র্যান্ডের কসমেটিকস, ভারতীয় চিনি এবং ক্ষতিকর মেডিকেল কিট দেশে প্রবেশ করছে। এর পাশাপাশি মাদকের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে ঢুকে ছড়িয়ে পড়ছে সিলেটেসহ সারা দেশে।

চিনি মামলার সেই দেলোয়ারই যখন চালক উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় আলোচিত ‘১৪ ট্রাক চিনি চোরাচালান’ মামলায় দেলোয়ার মোল্লাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চিনি চোরাচালানের পুরো অর্থায়ন ও সমন্বয় করতেন এই দেলোয়ার। তৎকালীন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে দেলোয়ারের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন। গত বছরের ২৮ জুলাই ভোরে হাদারপার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও পুরনো পেশায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।পণ্য পরিবহনের কৌশল ও রুট সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে: ট্রানজিট পয়েন্ট: বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে পণ্য প্রবেশের পর তা দ্রুত হাদারপার বাজারের গোপন গোডাউনে মজুত করা হয়। পরিবহন: ছোট ছোট নৌকা বা ট্রলারে করে পিয়াইন নদী হয়ে অথবা মোটরসাইকেলে করে দুর্গম রাস্তা দিয়ে পণ্যগুলো পাচার করা হয়।

ম্যানেজ প্রক্রিয়া: অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহলকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ প্রদান করে এই বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সচেতন মহলের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের কারণে সীমান্ত এলাকায় অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মাদকজাতীয় দ্রব্য সহজে পাওয়ায় তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “বিছনাকান্দি একটি পর্যটন এলাকা। এখানে চোরাচালান সিন্ডিকেটের দাপট পর্যটন শিল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা—উভয়ের জন্যই হুমকি। দেলোয়ারের মতো চিহ্নিত চোরাকারবারিরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য ও প্রত্যাশা এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও বিজিবি জানায়, সীমান্তে তাদের নজরদারি সব সময় অব্যাহত রয়েছে। প্রায়ই চোরাচালানি পণ্য আটক করা হচ্ছে। তবে দেলোয়ার-নজরুল-নুরু সিন্ডিকেটের নতুন তৎপরতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বিছনাকান্দি ও হাদারপারবাসীর দাবি, শুধুমাত্র ছিঁচকে কারবারিদের না ধরে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সীমান্তের এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এক নজরে সিন্ডিকেটের খতিয়ান: মূল অভিযুক্ত: দেলোয়ার মোল্লা (চিনি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি)। সহযোগী: নজরুল মোল্লা ও নুরুল ইসলাম নুরু। প্রধান রুট: বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্ট ও হাদারপার নদীপথ। অবৈধ পণ্য: চিনি, জিরা, কসমেটিকস, মেডিকেল কিট ও মাদক।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ