#কম স্টপেজে দ্রুত যাত্রা, নতুন আঙ্গিকে রেলওয়ের যাত্রীসেবা #
#একদিন নয় স্থায়ীভাবে কম স্টপেজ স্পেশাল ট্রেন চাই সিলেট -ঢাকা রেলপথের যাত্রীরা #
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: কম স্টপেজে যাত্রীদের স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে আজ ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ৮,৩০ মিনিটে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চালু হচ্ছে একটি বিশেষ ট্রেন (১৭) ‘ব্যালেন্স এক্সপ্রেস’।
বিভিন্ন স্টেশনে স্পেশাল ট্রেন ব্যালেন্স এক্সপ্রেস এ টিকিট কেটেছে ট্রেন যাত্রীরা আনন্দের সাথে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট – ঢাকা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের স্টাফরা ও স্টেশন মাস্টারগন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ডিআরএম পূর্বাঞ্চল বাংলাদেশ রেলওয়ে কে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তার বার্তা দেয়া হয়েছে ইতিপূর্বে।
পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলকে এর অনুলিপি।
সিআরবি কন্ট্রোল অর্ডার নং সি/ ৪৫২/২৬(.)
ডিটিও / ঢাকা কন্ট্রোল মেসেজ নং ৬২৪/ ২৬ তারিখ মোতাবেক সিলেট সেকশনে স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাবটি রেল ভবন ঢাকা কর্তৃক মেসেজ টিটি/ সিসি৪৮৪/২৬ এর অনুমোদিত হয়েছে বলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় একাধিক পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট সেকশনে স্পেশাল ট্রেনটি পরিচালনার
সকল নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের দিয়েছেন রেলের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক।
স্পেশাল ট্রেনটি সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর কুলাউড়া শ্রীমঙ্গল শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে যাত্রী উঠানামার জন্য বিরতি এবং ঢাকা বিমানবন্দর স্টপেজ এর নির্দেশনা রয়েছে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেনটি সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ০৮:৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। এরপর কুলাউড়া স্টেশনে ০৯:২৭ মিনিটে, শ্রীমঙ্গল স্টেশনে ১০:১৫ মিনিটে এবং শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে ১০:৫০ মিনিটে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি প্রদান করবে। শেষে ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দুপুর ০১:৩৩ মিনিটে পৌঁছাবে এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে ০২:১০ মিনিটে।
কম স্টপেজ হওয়ায় যাত্রীরা তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে জারি করা পরিপত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সড়কপথে একের পর এক প্রাণহানি , যাত্রা পথে ভোগান্তি , প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা, পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার্থে, ঈদে সিলেটে আসা লোকজনদের নিরাপদে গন্তব্যে ফেরাতে পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে ট্রেন যাত্রীদের সিলেট ঢাকা রেল পথে সিট সংকট নিরসন কল্পে স্বল্প সময়ে যাত্রী সেবা দিতে যাত্রীদের দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে এই ট্রেনটি সীমিত সংখ্যক স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে বলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলাম।
নিরাপদ ভ্রমণ হবে স্বল্প সময়ে রেলপথে এমন কথা চিন্তা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একদিনের জন্য স্পেশাল ট্রেনটি চালু সিদ্ধান্ত নিয়েছে
যে ট্রেনটির নাম হচ্ছে “”ব্যালেন্স এক্সপ্রেস “”
এ ট্রেনে ভ্রমণ করতে ইতিপূর্বে যাত্রীরা বিভিন্ন স্টেশন থেকে ও সংগ্রহ করেছেন টিকেট বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের বড় মাস্টার আবু বকর রাসেল ও কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মিজান।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট ঢাকা রেলপথের একজন ট্রেন পরিচালক মোহাম্মদ জহির জানান, স্পেশাল ট্রেন ব্যালেন্স এক্সপ্রেস রেলওয়ের যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির মাইল ফলক।
এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনের যত যাত্রী থাকবে তার চেয়ে দ্বিগুণ থাকবে উৎসুক জনতা। রেলওয়েতে চাকরি করার সুবাদে মানুষজন ট্রেনটি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানার আগ্রহ প্রকাশ করছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মাঠ পর্যায়ে সকলের কাছ থেকে আমরা এমনটাই শুনতে পারছি। যদিও সিলেট ঢাকা, সিলেট চট্টগ্রাম রেলপথের যাত্রীদের দাবি ভিন্ন। তাদের দাবি সর্বনিম্ন সপ্তাহে একটি করে দুটি ট্রেন চালু করা হোক স্পেশাল । যাতে সিলেটের ও সিলেটে আসা রেল ট্রেন যাত্রীরা স্বল্প সময়ে ভ্রমণ করতে পারে নিরাপদে। অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন হলে সমোপযোগী সুবিধা দিলে বিনিময়ে মূল্য দিতে ও রাজি তারা। ।
এতে করে প্রয়োজনে প্রাইভেট সেক্টরে দিলেও নেই তাদের কোন বাধা এমনটাই জানিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট ঢাকা রেলপথ সংস্কার ও নতুন ট্রেন চালুর দাবিতে আন্দোলনকারীদের একাধিক সংগঠক।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ট্রেন যাত্রী নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় আলাদা অজু খানা ও নামাজের কক্ষ প্রয়োজন বলে মিডিয়ার মাধ্যমে দাবি তোলেছেন সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পা।
সিলেট উন্নয়ন আন্দোলন সংগ্রামকে গানের ভাষায় প্রতিবাদের কন্ঠে নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার একমাত্র সংগঠক বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বিশেষ ট্রেন ব্যালেন্স এক্সপ্রেস এর যাত্রা শুভকামনা করে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট চট্টগ্রাম রেলপথে
সকল বৈষম্য দূরীকরণে রেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে আন্তরিক হওয়ার দাবি করেছেন । তিনি আশাবাদী আখাউড়া -সিলেট রেলপথের রেলপথের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে একজন ট্রেন যাত্রী হিসেবে।
সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর পরিচালক সমাজ কর্মী আখাউড়া সিলেট রেলপথের ট্রেন যাত্রী জাকিয়া ফাতেমা লিমি চৌধুরী বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক ইতিপূর্বে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে কালোবাজারি দূরীকরণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন এতে করে কিছুটা হলেও লাগব হয়েছে কিন্তু রেল ট্রেনে যাত্রীদের এখনো রয়েছেন নিরাপত্তা সংকট। যাত্রী সেবার
মান বৃদ্ধি বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রত্যেক বগি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা কর্মী অতীত জরুরী বলে মনে করেন তিনি। একজন যাত্রী নিরাপদে ট্রেন ভ্রমণ করার কথা কিন্তু সেখানে নিজের মোবাইল নিয়ে পর্যন্ত সংকোচ থাকতে হয়, ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে থাকতে হয় আতঙ্কে । মূল্যবান মালামালের সাথে থাকলে কার্য করে হলেও অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন হয়। তাহলে রেলওয়ের যাত্রী সভার মান কোথায় রয়? এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি ।
আখাউড়া সিলেট রেলপথ সংস্কার , নতুন ট্রেন চালু ,নতুন ইঞ্জিল , প্রত্যেক ট্রেনে বগি সংযোগ সহ নানা দাবীতে আমরা বর্তমান সরকারের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সহ ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করেছিলাম । সেদিন আমাদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায়
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমঝোতা বৈঠক করতে বাধ্য হয়েছিলো। আমরা আন্দোলন নয় চাই সংস্কার উন্নয়ন। তবে বাধ্য করা হলে ঘরে বসে থাকবো না এমন হুশিয়ারে দিয়েছেন আখাউড়া সিলেট রেলপথ ট্রেন যাত্রীদের দীর্ঘ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এম আতিকুর রহমান আখই। প্রশ্ন তুলেছেন একদিনের বিশেষ ট্রেন কেন ? ট্রেন যাত্রীরা ১২ মাসরেল টেনে ভ্রমণ করতে চায় । যাত্রীসেভার মান উন্নয়ন করে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে ও দাবী করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সিলেটবাসী মনে করে সিলেট- ঢাকা রেলপথে নতুন ট্রেন চালুর দাবি রেল ভবনে উত্তাবিত হয়ে আছে বলেই স্পেশাল ট্রেন চালু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । ট্রেন যাত্রীদের দাবি এরকম ট্রেন যেন স্থায়ী পায় সিলেট -ঢাকা রেলপথের ট্রেন যাত্রীরা।