সিলেটে আন্ত:ফসল চাষে স্বাবলম্বী প্রান্তিক কৃষকরা।। বিশ্বম্ভরপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন
# সিলেটের যে এলাকায় যে ফসল ভালো ফলন হয় সেটি চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর #
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, বিশ্বম্ভর পুর ( সুনামগঞ্জ) থেকে ফিরে: কৃষি উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে জোরালোভাবে সিলটে । তবে সেটি যে এলাকায় যে ফসল এর বাম্পার ফলন হয় সে এলাকা বেচে নিয়ে সেখানে সেই ফসল চাষাবাদে কৃষি বিভাগ উৎসাহিত করছে স্থানীয় কৃষকদের । এতে করে স্থানীয় কৃষকরাও আগ্রহের সাথে পছন্দের ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
জানাযায়, সরকারি বিভিন্ন রকমের সহযোগিতায় পতিত জমিতে আন্ত:ফসল হিসেবে সরিষা ও ভুট্টা চাষ করে সফল ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার প্রান্তিক কৃষকরা।
সেখানকার কৃষকরা এখন বছরে দুই মৌসুমের ধান আবাদের পাশাপাশি শাকসবজি, রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে ঘরে তুলতে পারছেন।এর ফলে কৃষক একই জমিতে দুই ধরনের ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এমন এক চিত্র দেখা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ধনপুর ইউনিয়নের শিলদুয়ার গ্রামে। কৃষি চাষে স্বাবলম্বী স্থানীয় চাষী আব্দুল হাসিম ও লক্ষিরপুর গ্রামের নবী হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল হাসিম বাড়ির পাশে ২৭০ শতাংশ এবং নবী হোসেন ২১০ শতাংশ জমিতে এবার ভুট্টার সাথে উন্নত ও দ্রুতবর্ধনশীল সরিষা ১৪ চাষ করেছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এসব ফসল বিক্রি স্বাবলম্বী কৃষক সংসারে বাড়তি আয় করতে পারবেন, পাশাপাশি সংসারের পুষ্টি চাহিদাও মিটাতে পারবেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর ব্লকে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঔ
মোহাম্মদ শামসুল আলম বিধু জানান, সরিষা সংক্ষিপ্ত সময়ের ফসল। সরিষা তুলার পর ভুট্টার গাছ থেকেই যাবে জমিতে। মাঝখান থেকে অতিরিক্ত আরেকটি ফসলের চাষ করে বাড়তি আয় করা চাইলে সম্ভব। আর এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে সরকারের কৃষি বিভাগ।
উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা আন্ত:ফসল চাষে ব্যাপক উৎসাহী । সরিষা এবং ভুট্টা চাষ করে পারিবরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিক্রি করে সংসারে বাড়তি আয় করা শুরু করে দিয়েছে আন্ত:ফসল চাষিরা।
পতিত জমিতে আন্তঃফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই সিলেট অফিসের কর্মকর্তারা বলে জানিয়েছেন কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও সবজি বীজ প্রদানসহ অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা করছে সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই সিলেট।
এ ব্যাপারে সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই সিলেট এর বৈজ্ঞানিক সহকারী সৈয়দ আবু রায়হান বলেন, আন্ত:ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় ২২ বিঘা জমিতে পরীক্ষামুলক ভাবে আন্ত:ফসল চাষ হিসেবে একই সাথে সরিষা ও ভুট্টার চাষ করা হয়েছে।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন,সিলেটের সব এলাকায় একই রকমের ফসল হয় না, যে এলাকায় যে ফসলের জন্য প্রসিদ্ধ। অথবা যেখানে যে ফসলের বাম্পার ফলন হয় সেখানে চাষীদের সে ধরনের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ। সকল উপজেলায় সমানভাবে রয়েছে বরাদ্দ সরকারের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, কৃষককে ফসল চাষে লাভজনক করে তুলতেই আমরা কাজ করছি।চাষী যখন কোন ব্যবসাকে লাভজনক মনে করবে না তখন সে আগ্রহী হবে না। তাই আমরা যে এলাকার যে ফসল চাষ করে লাভমান হয় । সেভাবেই কাজ করছি। কৃষক এখন বছরে দুই মৌসুমের ধান আবাদের পাশাপাশি দুইটি ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। ফলে তারা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের এ প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশের কৃষি বিপ্লবে চেহারা পাল্টে যাবে অর্থনীতির।