সিলেটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের অগ্নিকান্ড নিয়ে অপপ্রচার: বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জেলা পুলিশের
সম্প্রতি সিলেটের গোয়াইনঘাটে একটি পরিবারের বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি নিছক একটি দুর্ঘটনা হলেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে। যা সিলেট জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
প্রকৃত পক্ষে গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রয়াত স্কুল শিক্ষক বীরেন্দ্র দেব’র (ঝুনু মাষ্টার) বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন প্রয়াত ধীরেন্দ্র দেব’র বড় ছেলে বিকাশ চন্দ্র দেবসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
বীরেন্দ্র দেবের বাড়ি উপজেলার নন্দীর গাঁও ইউনিয়নের বহর গ্রাম পূর্ব পাড়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ওই বাড়িতে প্রয়াত বীরেন্দ্র দেবের ৪ ছেলে বসবাস করেন। তার বড় ছেলে বিকাশ চন্দ্র দেবও স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বসত ঘর থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বসত ঘরের সাথে খড়ের ঘর লাগানো ছিল। যার কারণে মুহুর্তের মধ্যে আগুন বসত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, দুপুরে আমার স্ত্রী টিউবওয়েলে পানি আনতে গিয়ে প্রথমে দেখতে পান বসত ঘরে আগুন জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তার পরিবারের সাথে কারো শত্রুতা নেই জানিয়ে বিকাশ দেব বলেন, কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। তিনি বলেন এলাকার মানুষজনের সহযোগিতায় সর্বস্ব হারানোর পরও আমি এখনো টিকে আছি।
অথচ এই ঘটনাকে পুজি করে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে অগ্নিকান্ডের ছবি ও ভিডিও রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে ভিন্ন খাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ প্রচার করতে থাকেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এ আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও প্রচার চালান কেউ কেউ। তবে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসহ সংশ্লিস্ট সকলেরই এই অগ্নিকান্ডকে দুর্ঘটনা হিসেবে ধারণা করছেন।
সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লাগার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। আগুন লাগার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতির মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মো: সম্রাট তালুকদার।