শিরোনাম
হরিরামপুরে বয়ড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত । গোয়াইনঘাটে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতার ৮ ভোলায় গ্রাম বাংলা জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ক্রীড়া উৎসব  কানাইঘাটে থানার দালাল সফিরের ক্ষমতার বাহাদুরি গোয়াইনঘাটে স্থানীয় পুলিশের ‘লাইনম্যান’ পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি নেপথ্যে কামাল ও আল-আমিন- গোয়াইনঘাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে অমর. সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন

মোংলা খুলনা মহাসড়কের দিগরাজ বাজার রেল গেটের পর থেকে মোংলা বন্দরের গেট পর্যন্ত, রাস্তা যেন এক মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার / ৭৩ Time View
Update : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫

খুলনা প্রতিনিধি:

বেহাল দশা মোংলা -খুলনা মহাসড়কের, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে মোংলা -খুলনা মহাসড়কের দিগরাজ বাজার রেল গেটের পর থেকে মোংলা বন্দরের গেট পর্যন্ত, রাস্তা যেন এক মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। শত শত গর্ত আর কাদা মিলে বৃষ্টির পর এই সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে করে শুধু যাত্রী নয়, স্থবির হয়ে পড়েছে মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিশেষ করে ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সড়ক বিভাগ বলছে, সংস্কার কাজ চলমান, শেষ হতে দেড় বছর সময় লাগবে। টানা বৃষ্টিতে এই মহাসড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কাঁদা জমে হাঁটুপানি, আবার কোথাও ভেঙে পড়ে আছে ট্রাকের যন্ত্রাংশ। ফলে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে, দুই প্রান্তে প্রায় সবসময়ই দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।

এ মহাসড়কটি দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। এটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর মোংলা, বেনাপোল, যশোর, ঢাকা এবং ভোমরা স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান রুট হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা হাজার হাজার পণ্যবাহী ছোট-বড় যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সরকার ২০১৭ সালে সড়কটি সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয়। যদিও কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়, কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে লাগাতার সংস্কারকাজ চালানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলাচলে এই দুর্ভোগের কারণে মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকেরাও বিপাকে পড়ছেন। দিগরাজ নেভি স্কুল গেটের দারোয়ান জানান, এ সড়ক ব্যবহার করে সকলে যাতায়াত করে। এখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল করে। গত ৩-৪ বছর ধরে সড়কটি উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। তবে একদিকে সংস্কারের কাজ শেষ হতে না হতেই অন্যদিকে সড়ক আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়ার কারণে আমরা এলাকাবাসী অনেক কষ্ট পাচ্ছি। সামনে দিগরাজ বাজার, এছাড়া এখানে নেভি স্কুল ও কলেজ এবং নেভি ক্যাম্প রয়েছে। সড়কের হাঁটু কাঁদার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে এবং যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন শতশত গাড়ি জ্যামে আটকে থাকে। আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই। ইজিবাইক চালক রাজিব হোসেন বলেন, দিগরাজ রেললাইনের পর থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরা। একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় হাঁটু পানি সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি নিয়ে চলাচল করা কঠিন হচ্ছে। অনেক গাড়ির এক্সেল ভেঙে আটকে যাচ্ছে। গাড়ি উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বাস ও ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমার গাড়িরও সমস্যা হয়েছে ফলে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আরেক ট্রাকচালক জালাল উদ্দিন বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে ট্রাকের স্প্রিং ভেঙে কাঁদায় আটকে পড়েছিল। পরের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত গাড়ি সরানো সম্ভব হয়নি। সড়কের এই অবস্থার কারণে সবাইই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। মোতালেব হোসেন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এই মহাসড়কে ২০২২ সাল থেকে সংস্কার কাজ চলছে। সরকার এখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, কিন্তু সঠিকভাবে কাজ হয়নি। বরং দুর্নীতির কারণে সড়কটি সর্বত্র ভাঙ্গা খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের আশপাশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা থাকলেও মানুষের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, কাজ শেষ হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘মহাসড়কের মাটির গুণাগুণ খারাপ। আবার ওভারলোড যানবাহন চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বুয়েটের পরামর্শে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। চার কিলোমিটার শেষ হয়েছে, ২.৩ কিলোমিটারের কাজ চলছে। আরও আট কিলোমিটার ঢালাই রাস্তা করা হবে। সব কাজ শেষ হতে দেড় বছর লাগবে।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ