বানিয়াচংয়ে প্রেমঘটিত বিরোধে সাদেকুজ্জামান হত্যা: সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে র্যাব-৯ এর হাতে ৪ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক:: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আলোচিত সাদেকুজ্জামান চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি আমির হামজাকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আমির হামজা হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বলাকীপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ (শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প) এবং সিপিএসসি (সিলেট)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণবন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফোরকান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পটভূমি: মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভিকটিম সাদেকুজ্জামান চৌধুরীর ভাই এনায়েত চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় সারাজ মিয়ার মেয়ে তাছনিয়া আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তারা পরিবারের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করেন। এই বিয়ে মেনে না নিয়ে সারাজ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এরই জেরে গত বছর ২২ অক্টোবর বিকেলে বানিয়াচংয়ের বলাকিপুর এলাকায় সাদেকুজ্জামান চৌধুরীকে পেয়ে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে আসামিরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ভিকটিমকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত ঘটনায় নিহত সাদেকুজ্জামানের ভাই বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর: ২০, তারিখ: ২৫/১০/২০২৫) দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-৯।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত ১২ নভেম্বর এই মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-৯।
র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আমির হামজাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।