জৈন্তাপুর সীমান্তে বেপরোয়া চোরাকারবারী ‘সুইট ফারুক’
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় দেদারসে চলছে চোরাচালান। আর এই অবৈধ ‘বুঙ্গা’ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠছে স্থানীয় যুবদল নেতা ফারুক আহমদ ওরফে ‘সুইট ফারুক’-এর বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনীর ওপর হামলা, শ্রমিক নেতার ওপর চড়াও হওয়া এবং চোরাচালানের মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগে বর্তমানে তিনি এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২৭ মার্চ (২৭/০৩/২০২৫ ইং) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা চোরাচালানের গরু ও মহিষ ধাওয়া করে। এ সময় যুবদল নেতা সুইট ফারুকের নেতৃত্বে একদল চোরাকারবারি সংঘবদ্ধ হয়ে কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় টহল দলের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন ইফফাতুর রহমান ও সার্জেন্ট মনিরুজ্জামান গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীরা সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বাদী হয়ে সুইট ফারুকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে আহত সেনাসদস্যদের চিকিৎসার নথিও সংযুক্ত করা হয়।
সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনার কয়েক মাস পর, গত বছরের ২৭ আগস্ট (২৭/০৮/২০২৫ ইং) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল কাস্টমস এলাকায় আবারও সুইট ফারুক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে।
তামাবিল শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক হোসেনের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সুইট ফারুকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সহযোগী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় মনির হোসেনের কাছ থেকে নগদ প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় ‘বুঙ্গার ব্যবসার লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত সুইট ফারুক দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় গরু, মহিষ, মাদক ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালানের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন। সীমান্তকেন্দ্রিক এই অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং রাতারাতি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অল্প সময়ে তার এই অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ টাকার জোরে সুইট ফারুক এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, যার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ভুক্তভোগীরা সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সুইট ফারুকের অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।