আমি বিচার চাই না, বিচার চেয়ে কী হবে?”— রামিসার বাবার কলিজা ফাটা আর্তনাদে স্তম্ভিত বিবেক; খুনিদের ক্ষমা করবে না ২০ কোটি মানুষ
নুরুজ্জামান দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: একজন বাবার কাঁধে যখন সন্তানের লাশ থাকে, তখন পুরো পৃথিবীটাই তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। রামিসার বাবার মুখ থেকে যখন বের হয়-আমি বিচার চাই না তখন বুঝতে হবে এই সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে এক হতভাগা পিতার বিশ্বাস কতটা ধুলোয় মিশে গেছে। তার এই “বিচার না চাওয়া” আসলে কোনো ক্ষমা নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের গালে এক বিশাল চপেটাঘাত। এটি এক চরম অভিমান আর বুকফাটা হাহাকার।
একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নয়, বরং হাওরপাড়ের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে রামিসার বাবার এই আর্তনাদ আমার কলিজায় বিঁধেছে। যখন নিজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে নীলিমা সুলতানা নিয়তির চেহারার দিকে তাকাই, তখন রামিসার সেই নিষ্পাপ মুখটি ভেসে ওঠে। একজন বাবা হিসেবে অনুভব করি, কতটা যন্ত্রণা বুকে চেপে ধরলে একজন পিতা বলতে পারেন যে তিনি বিচার চান না।
কিন্তু রামিসার বাবা বিচার না চাইলেও, এই দেশের ২০ কোটি মানুষ আজ বিচারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সর্বত্র আজ একটাই হাহাকার। রামিসার খুনিকে ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই। এই জঘন্য অপরাধীর ওপর আমি মনেপ্রাণে অভিশাপ দিচ্ছি।
একজন পিতার এই ‘না চাওয়া’ বিচারই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় খুনিদের জন্য। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—একজন বাবার এই চরম অভিমানকে অবজ্ঞা করবেন না। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পিতাকে তার সন্তানের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে না হয়, “আমি বিচার চাই না।”
হাওরপাড়ের প্রতিটি ধূলিকণা আর লোনা জল আজ সাক্ষী হয়ে আছে এই অন্যায়ের। ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন আর প্রত্যাশা বিফলে যাবে না। রামিসার খুনিদের বিচার হতেই হবে—সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আমরা সবাই।