বাংলাদেশ পাকিস্তানের নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ও পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন যাত্রার সম্ভাবনা সিলেটে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সফরে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পাকিস্তানের নারী উদ্যোক্তােদের ব্যবসায়িক ও পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন যাত্রার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সিলেটে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সফরে । ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো বিস্তীর্ণ করার কথা হয়েছে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর নেতাদের সাথে হাই কমিশনারের।
নতুন করে সিলেটের নারী উদ্যোক্তাদের হস্তশিল্প সহ বাংলাদেশের কিছু পণ্য যাবে পাকিস্তানে আর পাকিস্তানের পণ্য আসবে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ী সংগঠন সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন কালে বাংলাদেশের নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার কে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের নারী উদ্যোক্তারা।
তিনিও এতে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পাকিস্তান বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসা উন্নয়নে সহযোগিতার এক নতুন দ্বার উন্মোচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।
সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিপরিদর্শন কালে (১৭ মে ২০২৬) বিকেল ৩টায় পাকিস্তানের হাই কমিশনার সিলেট উইমেন চেম্বারের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যসামগ্রী ঘুরে দেখেন। নিজ হাতে স্পর্শ করে দেখেনও তিনি এসব পণ্যের প্রশংসা করেন। প্রশংসা করেন চায়ের রাজধানী সিলেটের চা পাতার।
বিশেষ করে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী শাড়ি, জামদানি এবং নারী উদ্যোক্তাদের হাতের নিখুঁত কারুকাজে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী দেখে অভিভূত হন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
ঐ দিন বিকাল সাড়ে ৩ টায় হাই কমিশনার চেম্বার কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা।
সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানের হাই কমিশনার বলেন, আজকের এই বৈঠকটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি দুই দেশের বাণিজ্য, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম।”
উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে যৌথ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন হাই কমিশনার।
এ্মন আয়োজনের মাধ্যমে দু-দেশের উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন, ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করেন পাকিস্তানি হাইকমিশনার।
হাই কমিশনার ইমরান হায়দার স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে,নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত বৈচিত্র্যময় পণ্য ও হস্তশিল্প,উন্নত মানের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী চা ও কৃষিভিত্তিক পণ্য
তিনি আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করতে এবং এই রপ্তানি বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতে পাকিস্তান হাইকমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
বৈঠকে সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান, উন্নত প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দেন। এই লক্ষ্য অর্জনে দু-দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।
নারী নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে তিনি একটি চমৎকার প্রস্তাব পেশ করে বলেন, উভয় দেশের নারী ব্যবসায়িক নেতাদের অংশগ্রহণে একটি “নারী উদ্যোক্তা শীর্ষ সম্মেলন” আয়োজন করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল সিলেটের পর্যটন শিল্প। সিলেটের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ চা বাগান, ইকো-ট্যুরিজম এবং সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে পাকিস্তানের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা একমত হন যে, পর্যটন খাতের যৌথ সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি দু-দেশের জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে (People-to-People Connectivity) আরও গভীর ও অর্থবহ করে তুলবে।
বৈঠক শেষে উইমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে হাই কমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করা হয় যে, এই ফলপ্রসূ আলোচনার সূত্র ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসা উন্নয়নে সহযোগিতার এক নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।
বৈঠকে এসময় উপস্থিত ছিলেন. চেম্বারের পরিচালক সামা হক, সাইমা সুলতানা চৌধুরী,রেহানা আফরোজ,রেহানা ফারুক শিরিন, আসমা উল হাসনা খান,জাকিরা ফাতেমা লিমি চৌধুরী, শাহানা আক্তার ও তাহমিনা হাসান চৌধুরী।
সংশ্লিষ্টদের মতে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সিলেট সফর j দু’দেশের ইতিবাচক বাণিজ্য , অর্থনৈতিক ওপারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।