শিরোনাম
হরিরামপুরে বহলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠিত।  রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযান বিদেশি রিভলবার ও ওয়ান শুটারগানসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার মাতৃভাষা এবং এর সার্থকতা -ইমতিয়াজ আহমেদ ভাষার মাসে কবিতা আবৃত্তি করে সাড়া ফেলেছেন তুলতুল হরিরামপুর পূর্ব খলিলপুরে মরহুম চান খান এর নিজ বাড়িতে ১ দিন ব্যাপি ওরশ মোবারক। সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর সমর্থনে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ বাজারে যুবদলের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত  বিজিবি সীমান্তে দেখতে পান না? দেখতে পায় শুধুমাত্র মিডিয়া কর্মীরা? জৈন্তাপুরে কোন চোরাকারবার নেই? যা হচ্ছে সিজার চুক্তির বিনিময়ে? পটুয়াখালী-৩ আসনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে ভিপি নুরুল হক নূরের ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত  ময়মনসিংহে হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪ 
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

সিলেটে প্র*তা*র*ণা: জামিনদারকে ফাঁ*সিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সায়েম

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

সিলেটে প্র*তা*র*ণা: জামিনদারকে ফাঁ*সিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সায়েম

 

সিলেটে এক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন গোলাপগঞ্জের সায়েম। তবে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন জামিনদারকে। এমন অভিযোগে সিলেট মহনগরীর কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ৪ মাস আগে। তবে কোনো ইতিবাচক ফল নেই। এদিকে জামিনদারের পাওনা প্রায় ১০ লাখ টাকাও দিচ্ছেন না সায়েম। এ অবস্থায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

জানা যায়, সায়েম আহমদ (৩১) গোলপগঞ্জ থানার বাদেপাশা ইউনিয়নের কেউটকোনা গ্রামের ফারুক আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন শাহপরাণ থানার শাহজালাল উপশহরের ১নং রোডের জি ব্লকের ২২নং বাসার ফরিজ উদ্দিন ও হেনা বেগমের ছেলে মোহাম্মদ আবুজাফর (৩৭)।

 

 

কোতোয়ালী মাডেল থানায় ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে তিনি আসামি করেছেন সায়েমসহ মোট ৪ জনকে। তারা হলেন তার স্ত্রী সাহেনা বেগম (৩৩), গোলাপগঞ্জের বাগলা দক্ষিণপাড়ার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (৩৫) ও তার ভাই এহতিসাম জাহেদ (২৫) কে। তাদের দু’জনের বর্তমান ঠিকানা হচ্ছে বন্দরবাজার ভিআইপি রোডের সুরমা টাওয়ার নিচতলার ৪নং দোকান।

 

 

আবুজাফর এজাহারে উল্লেখ করেছেন, সায়েম ব্যবসায়িক সূত্রে সায়েমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিয়েল সাইনের জন্য আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ৪৫ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন এবং তিনি নিজে গ্যারান্টার বা জামিনদার হয়েছিলেন। তবে সায়েম এক পর্যায়ে বিদেশ চলে যান এবং ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে পারেন নি। গ্যারান্টার হিসাবে আইডিএলসি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জাফর সায়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তখন নানান সমস্যা দেখিয়ে জাফরকে কিস্তি পরিশোধের জন্য কিছু টাকা ঋণ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

 

তিনিও তার অনুরোধে সাড়া দেন এবং তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পপুলার হজ্ব ও ওমরাহ সার্ভিস নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে এবি ব্যাংকের একাউন্ট থেকে রিয়েল সাইনের একাউন্ট, তার স্ত্রী ও ম্যানেজার নাজমুলের নামে মোট ৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি দেশে ফিরে সব টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন সায়েম। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল জাফরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে আরও কিছুদিন সময় চাইলে তিনি তাও তাকে ঋণ পরিশোধে কোনো চাপ দেন নি।

 

 

পরে তিনি তার স্ত্রী সাহেনা, রিয়েল সাইনের ম্যানেজার নাজমুল ও তার ভাই জাহেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসতে বললে জাফর ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে উপস্থিত হলে তারা তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করে জাফরকে হত্যার হুমকি দেন। তার টাকা আত্মসাতেই তাদের এমন ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা বলে মনে করছেন জাফর।

 

 

তিনি জানান, আবু জাফর ও আব্দুল হাদী সিলেটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাদের ভালো প্রফাইলের সু্যোগ নিয়ে ফাঁদ পাতেন সায়েম। তাদেরকে ব্যাংকের গ্যারান্টার বানিয়ে অসাধু কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার যোগ-সাজসে রিয়েল সাইনের নামে আইডিএলসি ও ইউসিবি এবং এবি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার মত লোন নিয়ে তিনি দুবাই পাড়ি জমিয়েছেন।

 

তিনি জানান, সায়েম প্রিন্টিং প্রেস চাকরি করতেন। আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে অসৎ পথে টাকা বের করে রিয়েল সাইন নামের ব্যবসা খুলেন সুরমা টাওয়ারে।

 

 

তিনি আরও জানান, সায়েম এ বি ব্যাংক থেকে এসটি ফার্ম নামীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিশেষ লোন নিয়েছেন বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই নেই। এরপর বিগত বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সুবিধা দিলে ও তিনি লোন রিসিডিউল বা পরিশোধের পদক্ষেপ না নিয়ে তার আত্মীয়র নামে সুরমা টাওয়ারের দোকানের ট্রেড লাইসেন্স পরিবর্তন করে স্বেচ্ছা ঋণ খেলাপির তালিকায় নাম লেখান। এসবের প্রভাব পড়ে ব্যবসায়ী জাফর ও হাদির ক্যারিয়ারে।

 

 

তিনি প্রশ্ন তুলেন, আইনের বেড়াজালে থাকা একটি ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে আরেক জনের নামে বদলি হয়? আর অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে এ বি ব্যাংক কিভাবে এত টাকা লোন দেয়?

 

 

এদিকে জাফরের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আজহারুল ইসলাম তদন্ত সম্পর্কে বলেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব আমার উপর পড়লেও পরে আমাকে জালালাবাদ থানায় বদলি করা হয়। এরপর এ বিষয়ে আর কিছুই আমার জানা নেই।

 

 

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে সায়েম বা তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। আর রিয়েল সাইনের তৎকালীন ম্যানেজার ও ৩নং অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ