শিরোনাম
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট নগরীর কাস্টঘরে প্রশাসনের অ ভি যান” অধরাই মা দক গডফাদাররা, হয়রানির শিকার নিরীহ পথচারী ও ব্যবসায়ী! গোয়াইনঘাটে হামলা-চাঁদাবাজির অভিযোগে আলিম উদ্দিন সুনামগঞ্জের ছাতকে পু’লি’শের অ’ভি’যানে বিভিন্ন মা’ম’লার ৪ আ’সা’মি গ্রে’ফ’তার সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সী’মা’ন্তে  নিঃস’ঙ্গ এক বার’কি শ্রমি’কের মৃ’ত্যু জৈন্তাপুরে ডিবি পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌপথে সক্রিয় রুমনসহ একটি চক্র নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উ’দ্ধা’রে সহায়তার আহ্বান প্রতিকার চেয়ে বাঁশতলায় মানববন্ধন, ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দোয়ারাবাজারে সরকারি কালভার্ট বন্ধ করে জলাবদ্ধতা, ঘরে ঢুকছে পানি । অভিনেতা রাহুলের স্মরণে- ইস্টবেঙ্গল মাঠে প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে- ট্রিবিউট ম্যাচ ২০২৬ ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার-৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

সিলেট নগরীর কাস্টঘরে প্রশাসনের অ ভি যান” অধরাই মা দক গডফাদাররা, হয়রানির শিকার নিরীহ পথচারী ও ব্যবসায়ী!

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৭ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

51

সিলেট নগরীর কাস্টঘরে প্রশাসনের অ ভি যান” অধরাই মা দক গডফাদাররা, হয়রানির শিকার নিরীহ পথচারী ও ব্যবসায়ী!

 

বিশেষ প্রতিবেদন:: সিলেট নগরীর কাস্টঘর সুইপার কলোনিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, মাদকের মূল সরবরাহকারী, কুখ্যাত আড়তদারও গডফাদারদের আড়ালেরেখে কেবল খুচরা সেবীদের ও নিরীহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন বন্দরবাজার ও সোবানিঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের অতি-উৎসাহী কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পথচারীরা। ফলে প্রশাসনের এই ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ অভিযানের আসল কার্যকারিতা নিয়ে খোদ নগরবাসীর মনেই এখন বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কাস্টঘরের সুইপার কলোনিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চোলাই মদ, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের এক বিশাল রাজ্য গড়ে উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুইপাররা নিজেদের পানের জন্য ভেতরে ঐতিহ্যগতভাবে চোলাই মদ তৈরি করার সুযোগ পেলেও, বর্তমানে সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে পুরো এলাকাকে বহিরাগতদের জন্য মাদকের উন্মুক্ত হাটে পরিণত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলোনির কতিপয় প্রভাবশালী মাদক কারবারি এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে বাঙালি লোক দিয়ে কাজ করায় এবং নিজেরা মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। পাশেই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা মহাজনপট্টি ও কালীঘাট থাকায় সূর্য ডোবার পরপরই কাস্টঘর এলাকায় মাদকসেবীদের মাতলামি ও আনাগোনা এতই বেড়ে যায় যে, নিরাপত্তার অভাবে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল অতীতে বহুবার আন্দোলন এবং স্মারকলিপি দিলেও পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

-কাষ্টঘর সুইপার কলোনিকে ঘিরে মা দ কের রমরমা ব্যবসা- সেবীরা আ ট ক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল কারবারিরা

স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরবাজার ও সোবানিঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রায়ই দিন-রাত কাস্টঘর সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে চেকপোস্ট বসান। সেখানে যাতায়াতকারী সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পকেট ও ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, তাদের দোকানের কর্মচারীরা যখন জরুরি কাজে বা মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য এই সড়ক ব্যবহার করে, তখন তাদের মাদকসেবী সাজিয়ে তল্লাশি ও হেনস্তা করা হয়। অথচ কলোনির ভেতরে ও আশপাশের বোর্ডিংগুলোকে কেন্দ্র করে কার ছত্রছায়ায় জুয়া ও মাদকের বড় বড় সিন্ডিকেট চলছে, তা সবার জানা থাকলেও সেখানে দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মাঝেমধ্যে ডিবির যৌথ অভিযানে ২৫ বা ৩০ জন খুচরা কারবারিকে ইয়াবা বা চোলাই মদসহ আটক করা হলেও মূল হোতারা সবসময়ই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেকেই বহুবার মাদক মামলায় জেলে গেলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই সিন্ডিকেট সচল করে।

 

সচেতন মহলের মতে, দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল বা অন্যান্য মাদকের অধিকাংশই বিভিন্ন সীমান্ত ও অবৈধ রুট ব্যবহার করে সিলেটে প্রবেশ করে। পার্বত্য সীমান্ত বা পার্শ্ববর্তী রুট দিয়ে আসা এসব মাদকের বড় বড় চালান কাস্টঘরের আড়তগুলোতে এসে জমা হয় এবং সেখান থেকে পুরো সিলেট বিভাগে সরবরাহ করা হয়। কাস্টঘর এলাকার সুইপার কলোনি মূলত এই নেটওয়ার্কের একটি অন্যতম ট্রানজিট ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি প্রশাসনের কাছে মাদক বিক্রির সুনির্দিষ্ট স্থান, স্পট এবং গডফাদারদের তালিকা সম্পর্কে তথ্য থাকেই, তবে মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহ চেইন বন্ধ করতে কেন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা অভিযান চালানো হচ্ছে না। কেবল সড়কে দাঁড়িয়ে খুচরা পর্যায়ে পথচারী আটকে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। যতক্ষণ না পর্যন্ত মাদক সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং এর পেছনে থাকা মূল অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নতুন নতুন ক্রেতা ও বিক্রেতা তৈরি হতেই থাকবে।

 

কাস্টঘর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও তল্লাশি চলার পরও কীভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাদক ও কাঁচামাল কলোনির ভেতরে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনসাধারণের দাবি, কলোনির প্রবেশদ্বারগুলোতে যদি পুলিশের এত কড়া নজরদারি থাকে, তবে কার চোখ ফাঁকি দিয়ে বা কার অভ্যন্তরীণ যোগসাজশে মাদক ভেতরে ঢুকছে তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা বন্ধ করে মাদক দূর করতে হলে এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং রাঘববোয়ালদের গ্রেপ্তার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাস্টঘর এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না করে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলা হোক। উৎস এবং গডফাদারদের উৎখাত না করে এমন দায়সারা ও প্রশ্নবিদ্ধ লোকদেখানো অভিযান চালালে কাস্টঘরের এই দীর্ঘদিনের অপরাধচিত্র কখনোই  দূর হবে না।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ