গোয়াইনঘাটে হামলা-চাঁদাবাজির অভিযোগে আলিম উদ্দিন
গোয়াইনঘাট(সিলেট) প্রতিনিধি:: সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নৌযান শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের রাগীব আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগঠন, গোয়াইনঘাট শাখার সভাপতি সুমন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, আব্দুল আলিম ওরফে আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি লোড পয়েন্টে বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ জাহাজে উঠে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এর প্রতিবাদে এবং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৪ জুন বিকেলে গোয়াইনঘাটে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসেন। এ সময় আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ট্রলারযোগে এসে লাঠিসোটা নিয়ে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
শ্রমিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে গোয়াইনঘাট থানায় গেলে পুলিশ কোনো সহযোগিতা না করে তাদের থানার বারান্দা থেকে বের করে দেয়। একই সঙ্গে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও গোয়াইনঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার নিরাপত্তা চাইলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গোয়াইনঘাট থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ নৌরুট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা নিয়মিত চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে ২ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন কৌশলে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ইজারাদারদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, গোয়াইনঘাট এলাকা ছাড়ার পর প্রতি ফুট হিসেবে এক টাকা করে আদায় করা হয়। পরে সালুটিকর ও বাধাঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে শ্রমিকদের মারধর করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ছাতক এলাকায় পৌঁছালে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে আরও ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের ডিআইজি এবং সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— গোয়াইনঘাটে স্থায়ী বা অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, রাতের বেলায় লোড পয়েন্টগুলোতে নৌ পুলিশের টহল জোরদার, সকল ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি ও ‘মার্কা’ বাণিজ্য বন্ধ এবং সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত নৌপথে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে তারা পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রেখে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে গোয়াইনঘাটকে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ‘অনিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার কথাও জানান তারা।
নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নৌ পুলিশ প্রধান, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন শ্রমিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মধ্যে মো. রাতুল ইসলাম, রাসেল, সোহেল, জামাল, শাহিন ও ফারুক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।