গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি সীমান্তে বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা: মামলা দায়ের
গোয়াইনঘাট (সিলেট)প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট ৪৮ ব্যাটালিয়নের বিছনাকান্দি বিওপি’র নায়েব সুবেদার ইনয়ামুল হক বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় এ মামলা করেন।
মামলার এজহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,মামলার বাদী ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিছনাকান্দি সীমান্তাধীন জলপুরী নামক স্থানে টহল ডিউটিতে ছিলেন।টহল ডিউটি কালীন সময়ে গোপন সংবাদের ভিওিতে ২৯ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ইউনিয়নে বিছনাকান্দি সীমান্তে মরকিটিলা নামক স্থানে সীমান্তের ১২৬৩/৮ এস পিলারের ২০০ গজ বাংলাদেশ অভ্যান্তরে মরকিটিলা নামক স্থানে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে ভারতীয় জিরা ও নাসীর বিড়ি চোরাই পথে এনে অবস্থান করছিল। এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেই এসময় চোরাকারবারিদের সদস্যরা উপস্তিতি টের পেয়ে চোরাই মালামাল রেখে পালিয়ে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া ৩০ বস্তা ভারতীয় জিরা ও ১০ বস্তা নাসীর বিড়ি জব্দকরা কালে রাত ৩ টার টার দিকে বিবাদী দুলাল মিয়া ও হেলাল এবং তাদের সঙ্গীয় ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত নামা বিবাদী অতর্কিত ভাবে বিজিবি সদস্যদের ওপরে পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি নিক্ষেপ করতে থাকে।
বিবাদীদের পাথর নিক্ষেপে সঙ্গীয় ল্যান্স নায়েক মোঃ শাহাদাত হোসেন ও ল্যান্স নায়েক রিমন হোসেন এর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিলাফুলা ও ছেচা জখম হয়।রাতের আঁধারে বৃষ্টির মত পাথর নিক্ষেপ দেখে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা পিছনে আসলেই দুলাল ও হেলালের হুকুমে অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা জব্দকৃত ২৫ বস্তা জিরা ও ৯ বস্তা নসীর বিড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।তৎক্ষনাৎ তাদের ধাওয়া দিলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ৫ বস্তা জিরা ও ১ বস্তা ভারতীয় নাসীর বিড়ি হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ইন্সপেক্টর( তদন্ত) কবীর হোসেন গনমাধ্যমকে জানান, বিছনাকান্দি সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিছনাকান্দি বিওপির নায়েব সুবেদার ইনায়ামুল বাদী হয়ে বুধবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।