সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সিলেট বুলেটিন ডেস্ক:: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও মজুত পর্যালোচনা করে আমরা দেখিছি, এখন পর্যন্ত সেটা স্থিতিশীল রয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বর্তমানে স্বস্তির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মধ্যে ৬৩ শতাংশই ব্যবহৃত হয় ডিজেল। ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি ট্রাক যদি ১০ টন পণ্য পরিবহন করে ঢাকা আসে, তাহলে তার প্রায় ৩০ লিটার তেল লাগে। এতে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়ায় মাত্র ৪৫০ টাকা, যা ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর এ বাড়তি খরচের প্রভাব পড়বে। সেটা নিশ্চয় খুব বেশি নয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে তেলের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সেখানে তুলনায় বাংলাদেশে মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অনেকে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাদ্য ও বাসাভাড়া হলেও এ খাতে প্রভাব হবে খুবই সীমিত। আর নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় সরকার টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর বাজারে যদি ব্যবসায়ীরা অন্যায়ভাবে মূল্য না বাড়ান এবং ভোক্তারা অতিরিক্ত পণ্য মজুত না করেন, তাহলে সামগ্রিকভাবে কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে না।
সয়াবিন তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাজারে দেখছি বোতলজাত সয়াবিন নেই, কিন্তু খোলা তেল পর্যাপ্ত আছে। আমরা বোতলজাত তেলের বিষয়টি নজরে রেখেছি, সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।
তিনি বলেন, কিছু কিছু পণ্যের ব্যবসা এত বড় ও মূলধন-নির্ভর যে সবাই এ খাতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীর হাতে এসব পণ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।