জাফলং সীমান্ত দিয়ে নারী পাচারের চেষ্টা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, মূলহোতা আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে দুই নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পাচারকারী চক্রের মূলহোতা মো. জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলার লোহাগড়া ও সদর থানা এলাকার বাসিন্দা জোছনা খানম (৪০) ও মাফিজা খাতুন (২২) অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে জাফলং এলাকায় আসেন। পাচারকারী চক্রের প্রধান জুয়েল মিয়া তাদের পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করে। গত ১৬ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাদের জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নলজুরি ভাইরালের মাঠ সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের জোরপূর্বক সীমানা পার করার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীরা চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করে।এজাহারভুক্ত আসামিরা সবাই গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। মামলার আসামিরা হলেন, মো. জুয়েল মিয়া (২৬) (মূলহোতা), পিতা- আ. শুকুর মিয়া, সাং- দক্ষিণ পান্তুমাই। শাহেদ আহমেদ লিটন (৩০), পিতা- আব্দুল মান্নান, সাং- নলজুরি। জানু মিয়া, পিতা- আমির হোসেন (শাহীন), সাং- দক্ষিণ পান্তুমাই। মোশারফ (৩০), পিতা- নূর মিয়া, সাং- আমখাই। শাকিল (৩২), পিতা- ইসমাইল আলী, সাং- আমখাই। রহমান (৩৫), পিতা- মৃত আলতা মিয়া, সাং- খাসিয়া হাওর। ভুটু (৪০), পিতা- মৃত এরশাদ মিয়া, সাং- নলজুরি আমখাই। সাইদুল (৩৫), পিতা- আকবর আলী, সাং- আলুবাগান, মোকামবাড়ী। নিজাম মিয়া (৪০), পিতা- মৃত ফজলুল হক, সাং- আলুবাগান। কামরুল (৩৩), পিতা- খলিলুর রহমান, সাং- আমখাই। সালাম মিয়া (৩৭), পিতা- খোরশেদ আলম, সাং- আমখাই। নির্মল বিশ্বাস (২৫), পিতা- পরেশ বিশ্বাস, সাং- আমখাই। মো. হাবিব মিয়া, পিতা- মৃত সামসুল হক, সাং- খাসিয়া হাওর। শরীফ মিয়া, পিতা- মৃত সামসুল হক, সাং- আমখাই মইনুল মিয়া (৩৪), পিতা- মৃত দুদু মিয়া, সাং- আমখাই। আবু বক্কর সিদ্দিক (৩২), পিতা- আব্দুর রশিদ সুনা মিয়া, সাং- আমখাই।ফয়সাল (২৮), পিতা- মো. বোতাই মিয়া, সাং- আমখাই।শাহাবুদ্দিন (২৮), পিতা- মৃত আব্দুর রব, সাং- আমখাই। হিরণ, পিতা- খোরশেদ আলম, সাং- আমখাই।মনসুর মিয়া (৩২), পিতা- ওহাব আলী, সাং- আমখাই। আলামিন (২৭), পিতা- মহসিন, সাং- নলজুরি।এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।ভুক্তভোগী জোছনা খানম এজাহারে উল্লেখ করেন, ১নং আসামি জুয়েল মিয়া তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি ইতিপূর্বে প্রায় ২৫০-৩০০ জনকে একইভাবে ভারতে পাঠিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জুয়েল মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়। বর্তমানে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।