ভৈরবে ওজনে কম দিয়ে প্রতারণা: মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু ভৈরব কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জনগণের ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা জ্বালানি যদি ওজনে কম হয়, তবে তা শুধু প্রতারণাই নয়—এটি নৈতিকতার বিরুদ্ধে এক নীরব ডাকাতি। এমনই এক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে একটি পেট্রোল পাম্পকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) ভৈরব উপজেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই নরসিংদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরবের লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন এবং কমলপুর এলাকার মেসার্স ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন-এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে পেট্রোল পাম্পগুলোর ডিসপেনসিং ইউনিট পরীক্ষা করে দেখা যায়, মেসার্স মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন-এ প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ৫০ মিলিলিটার কম দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ সাধারণ গ্রাহকরা প্রতিবার জ্বালানি নেয়ার সময় অজান্তেই প্রতারিত হচ্ছিলেন। এ অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে কমলপুরের মেসার্স ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন-এর ডিসপেনসিং ইউনিট পরীক্ষা করে সঠিক পরিমাপ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ।
ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আজিমুল হক-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই নরসিংদী অফিসের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) শেখ রাসেল। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই নরসিংদী অফিসের ফিল্ড অফিসার (সিএম) এ এফ এম হাসিবুল হাসান, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) অনিন্দ্য দে এবং ভৈরব থানা পুলিশের সদস্যরা।
প্রশাসনের এই অভিযান যেন একটি স্পষ্ট বার্তা—ব্যবসা হবে সততার, প্রতারণার নয়। কারণ একটি ফোঁটা জ্বালানি কম দেওয়া মানে হাজার মানুষের আস্থার পাত্রে ফাটল ধরানো। আর সেই ফাটল যদি সময়মতো বন্ধ না করা হয়, তবে সমাজে অবিশ্বাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে এবং সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।