শিরোনাম
ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং আতংকে সিলেট নগরবাসী : এস,এম,পি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন… হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি সিলেটে ছিনতাই রোধে  দ্রুত ব্যবস্থা নিতে  পুলিশ প্রশাসনকে  নির্দেশ দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী  খন্দকার  আব্দুল মুক্তাদির ছাতকের কাজীহাটা গ্রামে ইসলামি ছাত্র শিবিরের  উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত   প্রবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে  সিলেটের মাটি উর্বর, একসময় পাট চাষ হতো, নতুন চাষি সৃষ্টি করে, পাট অধিদপ্তর স্থাপন করে সরকারি সহায়তা দিলে পাট শিল্প সমৃদ্ধ হতে পারে – অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন জাল টাকা সহ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ গাইবান্ধা।  চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ২ দস্যু ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার পাগলা মসজিদে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের খাদেমচেয়ারম্যান হিসেবে সাংবাদিকও মানবাধিকার কর্মী মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু কে দেখতে চান এলাকাবাসী
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং আতংকে সিলেট নগরবাসী : এস,এম,পি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন…

স্টাফ রিপোর্টার / ৬ Time View
Update : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং আতংকে সিলেট নগরবাসী : এস,এম,পি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন…?

 

স্টাফ রিপোর্টার :: ২৪ শে স্বৈরাচার বিরোধী জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের পর সিলেট নগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লা, প্রধান সড়কের আনাচে কানাচে নিঃস্তব্ধতার চাদরে ঢেকে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত অবধি শুনশান নীরবতা। নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে বিভিন্ন রকমের প্রশাসনের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। এসময় আত্নগোপনে চলে যায় সিলেট নগরীর চিহ্নিত ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং চক্র, ও অপরাধী চক্রের গডফাদার ও তার সহযোগীরা। গোপনে অপেক্ষায় থাকে নির্বাচিত সরকার ও তাদের অসাধু নেতাকর্মীদের দিকে। সুযোগ সুবিধা ও চিন্তা চেতনা কে কাজে লাগিয়ে এস রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ছত্র-ছায়ায় ডুকে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে। সময়ের প্রেক্ষাপটে তাদেরকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। কয়েক মাস যেতেই ক্রমশ কমতে থাকে টহল।এতে করে গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে থাকা চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও অপরাধীরা সক্রিয় হতে শুরু করে। কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দলের হয়ে ডুকে পড়ে।

 

 

 

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এরা দুর্ধষ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড করে। চোরাচালান মাদক ব্যবসা, জোয়ার বোর্ড সহ অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে গেছে। তাদের পেছনে ছিল রাজনৈতিক পেশী শক্তির ছত্রছায়া এদের আটক করলেই থানায় ফোনে ও প্রকাশ্যে তদবির চালিয়ে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হত।

এরই প্রেক্ষিতে গত কয়েক দিন আগে নগরীর হাউজিং এস্টেট প্রকাশ্য দিবালোকে ২/৩ টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। যার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে ও আটক করা সম্ভব হয় নি অদৃশ্য পেশী শক্তির কারনে। এসময় এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ভার নিয়ে প্রত্যাহার হতে হয় এয়ারপোর্ট থানার ওসি মুবাশ্বির কে।

 

কিশোর গ্যাং

সিলেটে হঠাৎ করে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্হানীয় জনসাধারণের মনে বিরাট করছে আতংক। সেই সাথে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ও রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি ও বহিরাগত দলের পরিচয়ে থাকা ভয়ংকর সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী পুর্নবাসন নিয়ে। ঘটনার পর পর সিসিটিভি ফুটেজ ও শত শত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বিরকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওসি বদল হলেও ছিনতাইয়ের সুরাহা হয়নি এখনো। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। এতে নাগরিকদের মধ্যে ছিনতাই আতঙ্ক বেড়েছে।

 

 

 

এরকম আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরের সাগরদিঘিরপার এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে ওই নারীর গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগ ছাড়তে রাজি না হলে হাতে থাকা লম্বা অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন একজন। এক পর্যায়ে লোকজনের উপস্থিতির টের পেয়ে মোবাইল ও ব্যাগ না নিয়েই পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা।

এরই ঠিক নয়দিন আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টার দিকে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছিনতাইকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারপর জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।

দুটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ এখনো কাউকে ধরতে পারেনি। বৃহস্পতিবারে ঘটে যাওয়া ঘটনার ২৪ ঘন্টার পর সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশে টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। শনিবার রাত ১২ টার পর থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে কতোয়ালী থানা ও পুলিশের উর্ধ্বতন মহলের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চালানো হয় অভিযান। এই পর্যন্ত কোন ছিনতাইকারী আটক বা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি তারা।

 

 

এদিকে গত ৩/৪ আগে নগরীর ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোডের তকদির পয়েন্টে কিশোর গ্যাংদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুইজন মারাত্মক আহত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেয়। এই ঘটনার পর কতোয়ালী থানা পুলিশ কিশোর গ্যাং চক্রের ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আহত একজন রাতে চালায় অটোরিকশা ও আরেক জন নির্দিষ্ট কোন কাজে জড়িত নেই। নরশিংটিলা এলাকার একটি কলোনীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমুলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।সব মিলিয়ে নগরবাসী এখন ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং চক্রের কাছে জিন্মি হয়ে চরম আতংকে দিনাতিপাত করছেন।

এব্যাপার নগরবাসী ও রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান গুঞ্জন। কথা উঠছে কারা পৃস্ট পোষকতা করছে এদের। প্রশাসন কেন এদের কে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাহলে জুলাই আগষ্টের পরবর্তী প্রশাসনে কেমন সংস্কার হয়েছে। পুলিশ কি আদৌ তাদের নীতি নৈতিকতা বদলাতে পেরেছে। নাকি আগের মতো দলীয় আনুগত্য মেনে নিয়ে চলছে।

 

সিলেট কতোয়ালী থানার সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কামরুজ্জামান দিপু বলেন, ছিনতাই হঠাৎ করে বাড়ছে। বিশেষ করে দিনদুপুরে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

 

এ দুটি ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এটা এদিকে যেমন দুঃখজনক অন্য দিকে আতংকের বিষয়। ছিনতাইকারী কেন দলের হতে পারে না। আর যদি কেউ দলীয় পরিচয় প্রদান তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক।

 

সাপ্তাহিক সিলেট প্রান্তের সম্পাদক ও প্রকাশক খন্দকার মামুন আলী আখতার বলেন, এরকম ঘটনার জন্য আমরা ভীতসন্ত্রস্ত। আমরা জান মালের নিরাপত্তা সহ সার্বিক নিরাপত্তা চাই। অতিসত্বর এসব চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও শ্রম প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে এস,এম,পির পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে রয়েছে সকল চিহ্নিত ছিনতাইকারী, ও সন্ত্রাসী ও অপরধীকে কে নির্মুল করার দৃঢ় অঙ্গিকার।

 

 

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ