এক রাস্তার শহর কুলাউড়া; অগণিত যানবাহনে দমবন্ধ সময়
……………………………………..
শরীফ আহমেদ:: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আবহে নিজ শহর কুলাউড়ায় এসে যেন পুরোনো এক বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। চিরচেনা যানজট। ছোট্ট, প্রাণবন্ত এই শহরটির ব্যস্ততম সড়কে দাঁড়ালে বোঝা যায়, সময় এখানে শুধু ঘড়ির কাঁটায় নয়, আটকে থাকে যানবাহনের চাকার ভিড়েও।
কুলাউড়া মূলত এক রাস্তার শহর। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টমটম; সব যানবাহনই এই একমাত্র সড়ক ব্যবহার করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকাগামী বড় বাস। মৌলভীবাজার বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন রুটের অস্থায়ী স্ট্যান্ডও গড়ে উঠেছে সড়কের ওপরেই। ফলে সকাল থেকে রাত- একটানা যানজট যেন শহরের নিত্যসঙ্গী।
রমজান মাসে দিনের শেষে ইফতারের আগে দৃশ্যটা আরও করুণ হয়ে ওঠে। ক্লান্ত মানুষ দ্রুত ঘরে ফিরতে চাইলেও যানজটের ফাঁদে আটকে পড়ে। ছোট্ট শহরের সীমিত পরিসরে গাড়ির হর্ন, ধোঁয়া আর অধৈর্যের দীর্ঘশ্বাস মিলেমিশে এক অসহনীয় পরিবেশ তৈরি করে। যানজট শুধু রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম-এর সমস্যা নয়; এখন তা মফস্বল শহরেও প্রকট। কুলাউড়ার বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে-
সড়কের ওপর অবৈধ ও অস্থায়ী স্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল, পথচারীদের সড়কে নামতে বাধ্য হওয়া, সরু রাস্তা, যানবাহনের সংখ্যাবৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন অমান্য ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ইত্যাদি। বাজার, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ভিড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও নাগরিক স্বস্তি।
সমাধান কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা। অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বিকল্প সড়ক বা বাইপাস নির্মাণ, এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা- এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। গণমাধ্যমে এ নিয়ে বহুবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু উদ্যোগের ধারাবাহিকতা না থাকলে সমস্যার সমাধান হয় না।
কুলাউড়া একটি সম্ভাবনাময় মফস্বল শহর। কিন্তু যানজট যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে উন্নয়নের গতি থমকে যাবে। ছোট শহরের স্বস্তি হারিয়ে যাবে বড় শহরের বিশৃঙ্খলায়। এক রাস্তার এই শহর কি বহুমুখী সমাধানের পথে হাঁটবে, নাকি যানজটই হয়ে উঠবে এর নিয়তি? এখনই সময় কার্যকর সিদ্ধান্তের।
লেখক: সাংবাদিক।