রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির আর্তনাদ
এইচ.কে রফিক উদ্দিন:- কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দোকানঘর গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সূত্রে জানা যায়,রোহিঙ্গাদের জায়গা দিতে গিয়ে স্হানীয়রা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। তাদের জীবিকার মাধ্যম কৃষিজমিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর বসতি স্হাপন হওয়ায় বেকায়দায় স্হানীয়রা। তাই কর্ম হারিয়ে ক্ষুদ্র দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন কিছু বাঙালি পরিবার। এসব দোকান ছিল তাদের আয়ের একমাত্র মাধ্যম। সম্প্রতি ক্যাম্প-১১ প্রশাসনের নির্দেশে সেগুলো উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলো হঠাৎ করেই আয়ের উৎস হারায়। অনেকেই জানান, বিনা নোটিশে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে ক্যাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোরতা দেখা যায়নি। তারা বলেন, বিগত দিনে ক্যাম্প প্রশাসন (সিআইসি) এমন আচরণ করেননি। বর্তমান সিআইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। এতে আমরা আশাহত। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা পুনরায় জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পান।
এ বিষয়ে ১১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) মুনিবুর রহমান বলেন, ড্রেন ও রাস্তার ওপর অবৈধভাবে কিছু দোকান স্থাপন করা হয়েছিল, যা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। শুধুমাত্র যেসব দোকান ড্রেন ও রাস্তার ওপর ছিল, সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। কাউকে ব্যবসা বন্ধ করতে বলা হয়নি।
তিনি আরও জানান, দোকান মালিকদের রাস্তার পাশ থেকে সরে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দোকান পরিচালনা করুক। যাতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ চলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হয়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, উচ্ছেদের আগে পর্যাপ্ত সময় ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। আর,আর,সি ও সরকারের হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্তদের।