ভৈরব-কুলিয়ারচরে পরিবর্তনের ডাক, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আতাউল্লাহ আমিনের প্রতিবাদ, সুবিচারের মোড়ে হামলার নিন্দা
মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু ভৈরব কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃৎ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছেন। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ভৈরবপুর উত্তর পাড়ার হাজী মনু বেপারী বাড়ির সামনে অবস্থিত ভৈরব ফুড প্যালেন্স অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, “নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু সেই উৎসবের মাঠে যদি সহিংসতার ধোঁয়া ওঠে, তবে জনগণের ভোটাধিকার অন্ধকারে ঢেকে যায়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সুবিচারের মোড়ে তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভয়াবহ বাধার সৃষ্টি করা হয়। গণসংযোগ চলাকালে এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম, ছাত্রশিবির কুলিয়ারচর উপজেলা সভাপতি নাজিমুদ্দিন হৃদয়সহ ৮-১০ জন কর্মীর ওপর মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রার্থীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক নাদিরুজ্জামান খসরু, উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মেজবাউল হক খোকা, যুবদল নেতা জাকির হোসেন জিল্লু, যুবদল নেতা তানবীর সিদ্দিকি, নূরে আলমসহ আরও ১৫-২০ জন অংশ নেয়। হামলাকারীরা লিফলেট ছিনিয়ে নেয় এবং কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে আতাউল্লাহ আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া মানে শুধু কাগজ কেড়ে নেওয়া নয়, এটা মানুষের কণ্ঠরোধ করার শামিল। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”য়তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আতাউল্লাহ আমিন বলেন,
“জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ভৈরবকে বাংলাদেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবো। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক স্বপ্ন নয়, এটি এই জনপদের মানুষের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার নতুন দিগন্ত।”
তিনি আরও বলেন, ভৈরব-কুলিয়ারচরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে রূপান্তর করাই তার রাজনীতির মূল দর্শন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভৈরব উপজেলা শাখার আমির মাওলানা কবির হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীতে নব যোগদানকৃত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করা সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনতার দল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল কাদের সোহেল, গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, এনসিপি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয় এবং ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভাটি সঞ্চালনা করেন খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের ভৈরব শাখার সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেল।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী পরিবেশ, সহিংসতার অভিযোগ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে সহিংসতার অভিযোগ, অন্যদিকে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচরের রাজনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে, এই জনপদের ভবিষ্যৎ আলোয় এগোবে, নাকি আবারও অস্থিরতার ছায়ায় ঢেকে যাবে।