গোয়াইনঘাট সীমান্তে ‘লাইনম্যান’ সিন্ডিকেটের দাপট: ডিবি ও পুলিশের নামে কোটি টাকার চাঁদাবাজিমাদক, চিনি ও ভারতীয় পণ্যের নিরাপদ করিডোর প্রতাপপুর-লামাপুঞ্জি; নির্বিকার প্রশাসন
অপরাধ প্রতিবেদক : সিলেট সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত জনপদে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। চিহ্নিত ‘লাইনম্যান’ আব্দুল্লাহ, আল-আমিন ও কামালের নেতৃত্বে গঠিত এই সিন্ডিকেট প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য অবৈধ পথে দেশে নিয়ে আসছে। এতে সীমান্তে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ত্রাসের রাজত্ব: স্থানীয়দের অভিযোগ, কামাল নিজেকে থানা পুলিশের এবং আল-আমিন নিজেকে জেলা ডিবি পুলিশের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটে আরও রয়েছে খাইরুল, জসিম, রিয়াজ-১, রিয়াজ-২, কালাম, আরিফ ও লিয়াকত। এই চক্রটির অনুমতি ছাড়া সীমান্ত রুটে কোনো চোরাই পণ্যবাহী ট্রাক বা ডিআই গাড়ি চলাচল করতে পারে না।
মরণনেশা মাদক ও চোরাই পণ্যের মেলা: অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাটের প্রতাপপুর, লামাপুঞ্জি, মোগলি, কাটারির খাল এবং রাধানগর চা-বাগান এলাকা এখন চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট। প্রতি রাতে এসব পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি, নাসির বিড়ি, কম্বল, জিরা ও কসমেটিকস আসছে। সবচেয়ে ভয়াভয় তথ্য হলো, এসব পণ্যের আড়ালে ঢুকছে ইয়াবা, মদ ও গাঁজার মতো মরণঘাতী মাদক। যা গোয়াইনঘাট হয়ে সিলেট শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
নিশাচর বাহিনীর ‘টর্চলাইট’ মিশন: স্থানীয়রা জানান, সিন্ডিকেটের হোতা আব্দুল্লাহ, আল-আমিন ও কামাল সারাদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই টর্চলাইট হাতে মাঠে নামে। ভোররাত পর্যন্ত চলে চোরাকারবারিদের সাথে লাখ লাখ টাকার ঘুষের লেনদেন। অভিযোগ আছে, প্রতি রাতে ডিবি ও থানা পুলিশের নাম করে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে অবৈধ পণ্যের ‘সেফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করে এই বাহিনী।
অভিযুক্ত আল-আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারাভাবে বলেন, “আমি এসবের সাথে জড়িত নই।” তবে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “পুলিশের কোনো অফিশিয়াল লাইনম্যান নেই। আমার এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনমনে ক্ষোভ: সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের সদিচ্ছা ছাড়া এই বিশাল সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, চিহ্নিত এই লাইনম্যানদের গ্রেপ্তার করে সীমান্ত এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।