শিরোনাম
চেঙ্গেরখাল নদী গর্ভে সালুটিকর গাংকিনারী সড়ক:: সরেজমিন পরিদর্শন করলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী, ইউএনও ও পিআইও বালু উত্তোলন বন্ধে জাফলংয়ে প্রশাসনের অভিযান: পেলুডার ও ট্রাক জব্দ, আটক ২ ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে এগ্রো ডিলার ও বীজ ডিলারদের প্রশিক্ষণ প্রদান ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ই/স/রা/য়েলের হা/ম/লা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হা/ম/লায় মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভালোভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ।  সরকারি সম্পদ যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে — শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী । গোয়াইনঘাটর  ডালার পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ধ্বংস পরিবেশ, নেতৃত্বে কে এই স্বপন?  ডেবিল স্বপন সহ তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক?  অবৈধভাবে বালুমহাল চালু ও পাথর উত্তোলন করা যাবে না- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। এক রাস্তার শহর কুলাউড়া; অগণিত যানবাহনে দমবন্ধ সময় সিলেটে ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আমি আনন্দিত যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন একজন অমায়িক মানুষকে তাদের প্রশাসক হিসেবে পেয়েছে– ডা, শফিকুর রহমান 
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ হাদি হত্যার ন্যায়বিচারের দাবীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার / ১৩৪ Time View
Update : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ হাদি হত্যার ন্যায়বিচারের দাবীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশন স্টাডিজ (সিজিসিএস)এর উদ্যোগে “শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় সংকট ও আধিপত্যবাদী কাঠামো” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বক্তারা শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী কাঠামোর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।

 

সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শহীদ হাদির শিক্ষিকা ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, তিনি বলেন, হাদি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একজন মানুষ, যিনি অস্বাভাবিকভাবে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এখনো পরিবর্তন গ্রহণে অভ্যস্ত হতে পারিনি, এক চোখা জাতি হিসেবে হাদীকে পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারিনি। প্রশাসনের কাছে হাদিকে ছোট করে দেখা হতো, অথচ তারা ভয় পেত, হাদী সব সত্য প্রকাশ করে দেবে। আর এখনো হত্যার বিচার না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট। তিনি সকলকে সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেন আর কখনো ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় ফিরতে না পারে।

 

সেমিনারে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি আবেগঘন বক্তব্যে ব্যক্তিগত স্মৃতি, সংগ্রাম ও দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন জুলাই পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ কিংবা হাদীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রত্যক্ষভাবে আয়োজনের একজন হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান। তিনি দেশজুড়ে ওসমান হাদির প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তার জন্য সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। একইসাথে স্পষ্ট করে বলেন, অনেকেই তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলেও ওসমান হাদির পরিবার, তার স্ত্রী কিংবা সন্তান, কারো জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা তারা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। তিনি সবাইকে শুধু হাদির জন্য দোয়া করা এবং তাঁর হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, যদি কখনো মনে হয় যে তিনি হাদির আন্দোলন থেকে সরে গেছেন, তাহলে তাঁকে ছাড়াই হাদির আন্দোলনকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সাংবাদিক ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, বিপ্লবকে বোকা বানানোর একটি প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর মতে, হাদীর উত্থান জুলাই অভ্যুত্থানের ঔরসে জন্ম নেওয়া একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। হাদী জুলাইকে পূর্ণভাবে ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেন, হাদীর জানাযার মধ্য দিয়ে জুলাই যেন নতুন করে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। এই প্রজন্মের অসংখ্য তরুণ-তরুণী তাঁর জানাযায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, রোমান সাম্রাজ্য যিশুকে হত্যা করেছিল, কিন্তু তার বিচার হয়নি। তবুও যিশু ইতিহাসে মুছে যাননি। আজ হাদীকে নিয়েও নেটিজেনদের মাঝে এক ধরনের রুহানি ও রাজনৈতিক চর্চা গড়ে উঠেছে, যা আপ থেকে ডাউন সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপরে তিনি শহীদ হাদিকে নিয়ে তার লেখা একটি কবিতা ‘হাদি, তোমার শিয়রে ঝুঁকে জানাচ্ছি নালিশ’ আবৃত্তি করেন।

 

লেখক ও সম্পাদক রেজাউল করিম রনি বলেন, হাদিকে কেন্দ্র করে কিংবা ‘চব্বিশ’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, নইলে তা ব্যাকফায়ার করবে। তিনি বলেন, হাদির কর্ম ও চেতনাকে ইনস্টিটিউশনালাইজ করতে হবে। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশ্নে হাদী রাজনৈতিকভাবে সঠিক অবস্থানে ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে হাদী একজন গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ছিলেন এবং থাকবেন। তিনি বলেন, হাদী অতীত নয়, হাদীই বর্তমান। হাদীকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে, নইলে জাতি নতুন করে আবার অভ্যুত্থানের পথে যাবে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন আমাদের সময়ের একজন মহামানব যারা কখনো কিছু নেন না, শুধুই দিয়ে যান। তিনি বলেন, কবি নজরুল ইসলামের কবরের পাশে হাদীর চিরশায়িত হওয়া যেন বিদ্রোহী কবিতারই পাশে আরেক বিদ্রোহীর শুয়ে পড়া। তিনি বলেন, মহামানবদের বড় বড় পত্রিকা বা বই নাও থাকতে পারে, কিন্তু তাদের জীবনই হয়ে ওঠে পাঠ্য। তিনি হাদিকে নিয়ে উচ্চতর গবেষণা এবং পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

 

আপ বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, শহীদ ওসমান হাদির কোনো বিষয়েই তাঁর মধ্যে হীনমন্যতা কাজ করেনি। তাঁর মতে, হাদীর হত্যার পেছনে কেবল মাঠপর্যায়ের খুনিরা নয়, বরং আরও বড় শক্তি জড়িত রয়েছে, যার সন্ধান দিতে রাষ্ট্র এখনো ব্যর্থ। আলী আহসান জুনায়েদ আরও বলেন, হাদীর শাহাদাৎ বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর পরিবর্তন এনেছে। অনেক মানুষ শপথ নিয়েছে হাদীর লড়াই নিজ নিজ জায়গা থেকে জারি রাখবে, এমনকি নিজেদের সন্তানদের ‘হাদী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহদী বলেন, হাদী নিজেই বলে গিয়েছিলেন “আমার মৃত্যুর বিচারটা কইরেন।” এই কথাই প্রমাণ করে, সে সময় রাষ্ট্রব্যবস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, হাদীর ক্ষেত্রে আমরা জনতুষ্টিমূলক বা তড়িঘড়ি বিচার চাই না; আমরা ন্যায্য বিচার চাই। হাদী নিজেই বলেছিলেন, শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে হবে। তাই কাউকে হুট করে শাস্তি দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। হত্যার পেছনে যদি কোনো বড় শক্তি থেকে থাকে, তাকেও সামনে এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার একটি দীর্ঘ ও বিরক্তিকর প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শহীদ হাদীর চিন্তা ও লড়াইকে মাঠে ও সমাজে কীভাবে জারি রাখা যায়।

 

লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল বলেন, হাদি চেয়েছিলেন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণভিত্তিক একটি জাতীয়তাবাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলতেন আমরা ভারতের কোনো ছিটমহল হিসেবে থাকতে চাই না। এই আন্দোলনই হাদি লালন করেছিলেন। তিনি বলেন, হাদির যাত্রা জারি রাখতে হলে আমাদের বুঝতে হবে তিনি কী চাইতেন, বাংলাদেশের পরিচয়কে কীভাবে দেখতেন এবং রাজনীতিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করতেন। তিনি হাদীর অস্বাভাবিক কর্মশক্তি, সাহসিকতা ও মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ করার মানসিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্র তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এ ব্যর্থতা স্বীকার করে রাষ্ট্রকেই এর কাফফারা আদায় করতে হবে।

 

সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন, ড. খালেদ হোসেন, একাডেমিক ডিরেক্টর, সিজিসিএস ও সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের কো ফাউন্ডার মোহাম্মাদ তালহা।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ