শিরোনাম
চেঙ্গেরখাল নদী গর্ভে সালুটিকর গাংকিনারী সড়ক:: সরেজমিন পরিদর্শন করলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী, ইউএনও ও পিআইও বালু উত্তোলন বন্ধে জাফলংয়ে প্রশাসনের অভিযান: পেলুডার ও ট্রাক জব্দ, আটক ২ ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে এগ্রো ডিলার ও বীজ ডিলারদের প্রশিক্ষণ প্রদান ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ই/স/রা/য়েলের হা/ম/লা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হা/ম/লায় মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভালোভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ।  সরকারি সম্পদ যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে — শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী । গোয়াইনঘাটর  ডালার পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ধ্বংস পরিবেশ, নেতৃত্বে কে এই স্বপন?  ডেবিল স্বপন সহ তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক?  অবৈধভাবে বালুমহাল চালু ও পাথর উত্তোলন করা যাবে না- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। এক রাস্তার শহর কুলাউড়া; অগণিত যানবাহনে দমবন্ধ সময় সিলেটে ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আমি আনন্দিত যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন একজন অমায়িক মানুষকে তাদের প্রশাসক হিসেবে পেয়েছে– ডা, শফিকুর রহমান 
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

নারিকেল গাছের আতঙ্কে ঘুম হারাম দুটি পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

নারিকেল গাছের আতঙ্কে ঘুম হারাম দুটি পরিবারের

 

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি: মাঝে মধ্যেই ভেঙে পড়ছে ডালপালা, ঝরে পড়ছে নষ্ট নারকেল। প্রতিদিনের এমন ঘটনায় দিন দিন আতঙ্ক আর চরম ঝুঁকির মধ্যে সময় কাটাচ্ছে দুটি পরিবার। বিশাল একটি নারিকেল গাছ এমনভাবে হেলে পড়েছে যে, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই যে কোনো মুহূর্তে আস্ত গাছটি বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়তে পারে! এই আশঙ্কায় দিন কাটছে দুটি পরিবারের।

 

প্রবাসী টিটুন মাতুব্বর তার পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে প্রতিনিয়ত এই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছেন। রাত নামলেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কখন কোন বিপদ নেমে আসে, এই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের।

 

ঘটনাটি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিবিরকান্দী গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী কোরবান মাতুব্বর ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গাছটি রেখে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় ও চাপের মধ্যে রাখছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার একাধিকবার কোরবান মাতুব্বরকে গাছটি অপসারণের অনুরোধ জানালেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। উপায় না পেয়ে বর্তমানে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালতে অভিযোগ করেছেন তারা। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এ বিষয়ে অভিযোগ করে টিটুন মাতুব্বর বলেন, “আমরা বহুবার প্রতিবেশী কোরবান মাতুব্বরকে অনুরোধ করেছি গাছটা কাটতে বা সরাতে। কিন্তু সে আমাদের কথা শোনে না। তার পেশিশক্তির জোরে আমাদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে। এর সমাধান না হলে আমাদের পথে রাত কাটাতে হবে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য, এসএসসি পরীক্ষার্থী মৌ আক্তার বলেন, রাতে পড়াশোনার সময় হঠাৎ হঠাৎ জোরে নারকেল আর ডালপালা পড়ে। একদিন দেখি টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে, কয়েক জায়গায় ছিদ্র হয়েছে। খুব ভয় লাগে কখন না জানি গাছটা ভেঙে আমাদের ওপর পড়ে।

 

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেশী কোরবান মাতুব্বরের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম বলেন, ওরা যা বলতেছে সব মিথ্যা। আমাদের সঙ্গে সীমানা নিয়ে মামলা চলতেছে। গাছটা হেলে পড়লেও সেটা আমাদের জায়গার মধ্যেই আছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাছ কাটবো না।

 

কোরবান মাতুব্বরের বোন জিরা খাতুন বলেন, গাছের ডাল পড়ে কারো ক্ষতি হলে আমাদের কিছু করার নেই, মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাছ কাটবো না। তাছাড়া গাছ তো আমাদের জায়গার মধ্যেই আছে।

এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে জমি ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। টিটুন মাতুব্বর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা সংঘাত ঘটতে পারে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা।

 


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ